বগুড়ায় বিএনপির সহযোগী তিন সংগঠনের ডাকা তারুণ্যের সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছে সংগঠন গুলোর নেতারা। উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রংপুর ও রাজশাহীর ১৬ জেলার নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছে বগুড়ার এই তারুণ্যের সমাবেশে।
সোমবার (১৯ জুন) সমাবেশ বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা ৪টার দিকে শুরু হয়।
সমাবেশে চলাকালে কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। বক্তব্যে তারা বলেন, আমরা দেশের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা করেছি। বিসিএস পরীক্ষার পাস করার পরও আমাদের চাকরি হয়নি। শুধু মাত্র আমরা আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য না হওয়ায়। কিন্তু দেশের সংবিধান তো এটা বলেনি। আমার সহপাঠীরা আজ তিন বছর পার করল চাকরি জীবন। আমরা বাড়িতে যাইতে পারি না। বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। মা-বাবাকে কিছু দিতে পারি না। আত্মীয় স্বজনরা অন্য চোখে তাকায়। কুটুক্তি করে থাকে। ভাই-বোনদের কোনো চাওয়া পুরণ করতে পারি না। কেন আমার আমার চাকরি হবে না। জাতির কাছে এর বিচার চাই।
ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া রংপুর থেকে আসা এক তরুণী ফারজানা ইয়াসমিন তুশি বক্তব্যে বলেন, আমি নতুন ভোটার হয়ে একবারও ভোট দিতে পারি নাই। কেন? আমি ভোট দিতে গিয়েছিলাম। তারা বলে আমার নাকি ভোট দেয়া হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব? আমি আমার ভোট দিতে চাই। যেখানেই নিয়ে যাবেন, আমি সেখানে গিয়ে বলতে চাই, আমি আমার ভোট দিতে চাই। দেশ ও জাতির কাছে আমার এই চাওয়া।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মকেও জাগ্রত করতে দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তরুণ সমাবেশ করবে বিএনপির তিন সংগঠন।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিএনপির তিন সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ উদ্যোগে বগুড়া শহরের সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে এ সমাবেশ শুরু হয় ।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনায় আছেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। এ সমাবেশের মঞ্চে আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ। এছাড়াও তরুণ সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
উল্লেখ্য, স্কুলের শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা থাকায় সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা দুপুর আড়াইটা থেকে মাঠে প্রবেশ করেন। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ টি জেলার প্রায় সব জেলা থেকে নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে অংশ নিতে সভাস্থলের আশেপাশে সমবেত হয়েছেন।
তরুণ সমাবেশের আয়োজকেরা অভিযোগ করে বলেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলার বেশকিছু উপজেলা থেকে রিজার্ভ করা গাড়ি সমাবেশে আসতে দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাদের হুমকির মুখে রিজার্ভ এর টাকা ফিরে দিয়েছেন গাড়ির মালিকরা।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মকেও জাগ্রত করতে দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তরুণ সমাবেশ করছে বিএনপির তিন সংগঠন। যা গত বুধবার চট্টগ্রামে সমাবেশের মাধ্যমে শুরু হয়।













