সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের ইসলামীয়া সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: খবরের কাগজ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কারা বাংলাদেশে নারীদের সঙ্গে কী করেছে আমরা সব জানি। বাক্সের মুখ খোলাবেন না, তাহলে সব প্রকাশ করে দেব।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জের ইসলামীয়া সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বিলেন, জামায়াত নারীদের এগিয়ে যাওয়ায় কোনো বাধা হবে না। বরং নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, এক সময় সিরাজগঞ্জ ছিল শিল্প কারখানার কেন্দ্রবিন্দু। এখানে তাঁত শিল্প, গাভী লালন পালন করা হতো, কিন্তু প্রায় তাঁত শিল্প ধ্বংসের মুখে। তাঁতের বাজার তৈরি করা তাঁতীদেরকে সহজলভ্যভাবে ঋণ দেওয়াসহ বিভিন্ন সহযোগিতাসহ বিগত সময়ে কিছুই করা হয়নি। যার ফলে তাঁত শিল্পটি আস্তে আস্তে মুখ থুবড়ে পড়েছে। এভাবে যদি ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পটি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তো বেকারের মিছিল আরও লম্বা হবে। আমাদেরকে যদি জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে তাহলে তাঁত শিল্পকে আবারও জীবন্ত করে তোলা হবে।
২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশে গুঁড়া দুধের চাহিদা পূরণ করার জন্য বিদেশ থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা গুঁড়া দুধ কিনেছে। সিরাজগঞ্জের খামারীরা দুধের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কারণে প্রতিবাদে অনেক সময় রাস্তায় দুধ ঢেলে দেয়। খামারিদের প্রতি এটা হচ্ছে সরকার ও প্রশাসনের কুপাশ উপেক্ষা। আমরা কথা দিচ্ছি সিরাজগঞ্জের দুধ আর ঢাকায় যাবেই না। সিরাজগঞ্জের দুধকে এই সিরাজগঞ্জের মাটিতে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রক্রিয়ায়জাতকরণ করে বাংলাদেশের বাজারে দুধের চাহিদা পূরণ করা হবে। এতে করে খামারিরা উৎসাহিত হবে। বিপুল সংখ্যক যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
এছাড়াও এখানে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ বাসস্থান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। এখানে বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হয় কিন্তু নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাঁধ ধসে পড়ে যায়। আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছিল দূর্নীতি করবো না। তাই ক্ষমতায় গেলে নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি করে যে অর্থ লোপাট করা হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে জামায়াত কাজ করবে। দুর্নীতি বন্ধ ও চুরির টাকা ফিরিয়ে আনা গেলে দেশের চেহারা বদলে যাবে। জামায়াত দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বে।
এই জনসভায় জেলার বিভিন্ন আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির। ১০ দলীয় জোটের পক্ষে যেখানে যে প্রার্থী আছেন, তাদেরকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে, কথা দিচ্ছি ওসমান হাদি হত্যার বিচার হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে ১৪০০ শহিদের হত্যাকারীদের বিচার করা হবে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। ‘হ্যাঁ’ মানে বাংলার জমিনে চাঁদবাজদের বরদাশত করা হবে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে অনিয়ম দুর্নীতি চুরি, চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেব না। কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের শিকড় উপড়ে ফেলবো। আমরা দুর্নীতি করবো না। কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। আপনারা দুর্নীতিবাজদেরকে বয়কট করুন। এবারে নির্বাচনে আপনারা চাঁদাবাজদেরকে বয়কট করুন।












