খুনি রাজনৈতিক দল বিএনপিকে কবরস্থানে পাঠানো হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম।
তিনি বলেন, খুনিদের উচিৎ শিক্ষা দেয়া হবে, যাতে রক্তঝরা খুনের রাজনীতি দেশে ফিরে আসতে না পারে। খুনি রাজনৈতিক দলকে এ দেশ থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করা হবে।
বুধবার (২৪ মে) দুপুরে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব মকবুল হোসেন-এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক স্মরণ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা সংঘাত চাই না। রক্তের প্রতিশোধ রক্তের বিনিময়ে আমরা নিতে চাই না। আমরা চাই না আমাদের মাতৃভূমি ধ্বংস হোক। তাই বলে খুনীর দলেরা যদি আমাদের প্রিয় দেশকে ধ্বংস করতে চায়, দেশের মানুষের রক্ত ঝরাতে চায় তাহলে আমরা বসে থাকবো না। তাদের উচিত শিক্ষা দিব, যাতে তারা দেশের মানুষের কোন ক্ষতি করতে না পারে। তারা বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার হুমকি দেয়। বঙ্গবন্ধু কন্যার উপর যদি বিন্দুমাত্র আঘাত আসে তাহলে দেশের প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদেরকে আমরা নিশ্চিহ্ন করে ফেলব।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা আবারও তাদের নিজেদের চরিত্রে ফিরে এসেছে। বিএনপি-জামাতের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন শেখ হাসিনা। তাদের মূল উদ্দেশ্য শেখ হাসিনাকে হত্যা করা।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তাবেদারি ও খুনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি-জামাত। এটিই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু খুনিরা যদি রক্ত ঝরাতে চায়, আওয়ামী লীগ বসে থাকবে না। শেখ হাসিনার কোনো ক্ষতির চেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। যেখানেই ওরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাইবে, নেতাকর্মীদের ওপর ছোবল মারতে চাইবে; সেখানেই তাদের মুখ থেঁতলে দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে ঠিক তখন একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশকে পেছন দিক দিয়ে টেনে ধরার চেষ্টা করছে। এরা বাংলাদেশকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানাতে চায়। এই অপশক্তি দেশে বাংলা ভাইদের মত জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। তাদের সব কর্মকান্ডে এরা সহযোগিতা করত। এই বিএনপি-জামাতের সহযোগিতায় দেশে জঙ্গিরা সিরিজ বোমা হামলা করেছিল।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামাত বাংলাদেশে আবারো নতুন করে ধূম্রজাল বিস্তার করছে। এরা মানুষ পুড়িয়ে মেরে অগ্নি সন্ত্রাস করেই থেমে থাকেনি। এরা রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনা সরকারকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এরা জাতির পিতা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার যে রাজনীতি সে রাজনীতি নষ্ট করার জন্য সব চেষ্টাই করছে। বিএনপি ধ্বংস ও খুনের রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে আবার তাদের পুরনো চরিত্রে ফিরে গেছে। তাদের জন্ম হয়েছে খুনের রাজনীতির মাধ্যমে। জাতির পিতা ও তার পরিবারদের হত্যা করার মধ্য দিয়েই বিএনপি-জামাতের উত্থান ঘটেছিল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে খুনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচানোর জন্য তারা ইনডেমনিটি আইন জারি করেছিল। তারপরও তারা খুনিদের রক্ষা করতে পারেনি। ২১ বছর পর খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু, নগর দক্ষিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন সহ নগর দক্ষিণের অন্তর্গত বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।












