• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের আদালতের মুখোমুখি করতে হবে

প্রকাশ: শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫ ৪:৫০
আপডেট: শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫ ৪:৫০

রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের আদালতের মুখোমুখি করতে হবে

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সুনির্দিষ্টভাবে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের আদালতের মুখোমুখি করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। তাহলে বাংলাদেশকে আর কেউ তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে সক্ষম হবে না।

শুক্রবার (২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে ‘এবি পার্টি’র ৫’ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি দল সংস্কারের পক্ষে। তারপরেও সংস্কার নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেন এতো সময়ক্ষেপন করছে। এই নিয়েও জনগণের মনে ধীরে ধীরে প্রশ্ন বেড়ে চলেছে।

তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবারও বলতে চাই, সুনির্দিষ্টভাবে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের আদালতের মুখোমুখি করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এবং এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ…সরকার গঠিত হলে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুসংহত থাকবে। রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে সরকার গঠন এবং পরিবর্তনে জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো অভ্যস্ত হয়ে উঠলে আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দৃডভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে আর কেউ তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে সক্ষম হবে না।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫টি নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। রাজনীতির ময়দানে আমরা তাদের স্বাগত জানাই। গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, দেশের স্বার্থের প্রশ্নে বাংলাদেশের পক্ষের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান এক ও অভিন্ন। উদ্দেশ্য এবং গন্তব্য এক ও অভিন্ন। কি সেটি? সেটি হচ্ছে দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং অবশ্যই জনগণের কল্যাণ সাধন। তবে যে রাজনৈতিক দলটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে, গণতন্ত্র হারিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের জন্ম দিয়েছিলো, সংবিধানে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছিলো, গুম-খুন-অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলো, বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলো রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যূত্থানে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। গণতন্ত্রকামী জনগণ দেশের স্বার্থ বিরোধী অপশক্তিকে কখনোই মেনে নিবে না।

তিনি বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে পলাতক স্বৈরাচার জনগণের ভোট ছাড়াই তিনবার অবৈধ সরকার গঠন করে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আজ জানতে চায়, সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের আগামী দিনের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বা নিয়েছে। ব্লেইম-গেইম দিয়ে কিন্তু দ্বায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার আগামী দিনে অবশ্যই সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, পলাতক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে যারা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছেন তাদেরকে বলতে চাই লুটপাট ও দুর্নীতির শত শত কোটি টাকা হাতে নিয়ে সারাদেশের স্বৈরাচারের দোসররা পুনর্বাসিত হওয়ার অপেক্ষায়। স্থানীয় নির্বাচন পলাতক স্বৈরাচারের জন্য পুনর্বাসিত হওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। যারা বলেছেন তারা হয়তো এই বিষয়টি বিবেচনা করেন নি। আমি অনুরোধ করবো, বিষয়টিকে এইভাবে বিবেচনা করার জন্য।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণের স্বাধীনতার বার্তা উপেক্ষা করে পতিত পলাতক স্বৈরাচার দীর্ঘ দেড় দশক স্বাধীন বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলো। ভবিষ্যতে আর কেউ যেনো বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার দুঃসাহস না দেখায়। পরাজিত তাবেদার অপশক্তি ও তাদের দোসররা আর যাতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেটিই হোক বাংলাদেশের আজ এবং আগামীদিনের রাজনৈতিক বন্দবস্ত।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায় নিশ্চিত করা না গেলে শেষ পর্যন্ত কোন সংস্কারই হয়তো টেকসই হবে না। একারণেই রাষ্ট্র-রাজনীতির গুণগত সংস্কার এবং নাগরিকদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, নির্বাচিত জাতীয় সংসদ এবং নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল নির্বাচনের দাবি জানাবে এটাই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রীতি। অথচ আমরা খেয়াল করছি, গত কিছুদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে দেশে এমন একটি আবহ তৈরির প্রচেষ্টা চলছে যেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানোই যেনো এক অপরাধ। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অবজ্ঞাসূচক বক্তব্য-মন্তব্য কিন্তু পলাতক স্বৈরাচারকে আন্দন্দ দেয়। অপরপক্ষে এটি গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য অপমানজনক। রাষ্ট্র-রাজনীতি মেরামতের জন্য সংস্কারের কর্মযজ্ঞ চলছে। তবে চলমান সংস্কার যদি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি অবজ্ঞা করতে হয়, প্রলুব্ধ করে তাহলে সংস্কারের তাৎপর্যটা কি? এটি বহু মানুষের প্রশ্ন আজ।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণআধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 

[interactive_divitional_maps_bd]

সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫( লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com,


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com