জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের সংসদ। সেই শহিদদের রক্তের সঙ্গে কেউ যেন বেইমানি না করে—এটাই এখন দেশের মানুষের প্রত্যাশা বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নতুন পথ দেখিয়েছে। সেই আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হলে সংসদের প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সংসদ কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জায়গা নয়, বরং এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের জায়গা। তাই এখানে এমন কোনো আচরণ বা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যা জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই সংসদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে জনগণের স্বার্থ এবং শহিদদের স্বপ্নের প্রতিফলন থাকতে হবে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, সংসদকে কার্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ রাখতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সংসদ পরিচালনা করা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ এমন একটি সংসদ হবে যেখানে গঠনমূলক আলোচনা, সমালোচনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘ সময় ধরে একটি কার্যকর সংসদের প্রত্যাশা করেছে। এখন সেই প্রত্যাশা পূরণের সময় এসেছে। সংসদ সদস্যদের উচিত ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদরা যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর। সংসদ যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, তবে সেই স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
তার মতে, শহিদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানাতে হলে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে সংসদের প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।












