জনতার আওয়াজ ডেস্ক
১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেছেন, আমাদের ভূখণ্ডে কোনভাবেই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হোক সেটা আমরা চাইনা। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। আমরা আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে, সার্বভৌমত্বের অক্ষুন্যতা নিয়ে আগামীদিনে সকলের সাথে বন্ধুত্ব করে পথ চলতে চাই।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ ভারতের আগ্রাসী বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত এক মাসের কার্যকলাপের মধ্যে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা হলো আমাদের দেশের পররাষ্ট্রনীতি তার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিত্যাগ করে স্বাধীন সার্বভৌম একটি পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং খুব ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ভারত আমাদের দেশের বিতাড়িত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দিয়ে আমাদের সাথে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করেনি। ভারতকে আমরা আজও বন্ধু হিসেবে গণ্য করতে চাই। কিন্তু তাদের থেকে কোনো অবন্ধু সুলভ আচরণ সহ্য করতে পারিনা। আমাদের অন্তবর্তীকালিন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এই কথাগুলো বলেছেন। সেই কারণে রাজনাথ সিং এত ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের চারদিকে আজ একটি অশান্তিকর পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, অরুণাচলে যে অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে ভারত যদি তার পরিস্থিতি পরিবর্তন না করে তাহলে আগামী ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কি নেমে আসবে সেটা আমরা জানিনা। অরুণাচল প্রদেশে ইতিমধ্যে ৬০ কিলোমিটার ভিতরে আরেকটি রাষ্ট্রের সৈন্যবাহিনী ইতিমধ্যে ঢুকে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভূখণ্ডে কোনভাবেই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হোক সেটা আমরা চাইনা। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। আমরা আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে, সার্বভৌমত্বের অক্ষুন্যতা নিয়ে আগামীদিনে সকলের সাথে বন্ধুত্ব করে পথ চলতে চাই। ভারতের উচিত হবে বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বিতাড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া। আমাদের সীমান্তের সমস্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করা।
সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আমরা বরদাশত করবোনা। ভারতের আগ্রাসনের দিন শেষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। সুতরাং বাংলাদেশের দিকে নজর না দিয়ে নিজের ঘর সামলান। মনিপুরে কিন্তু সাত রং এর পতাকা উড্ডীন হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশ নিয়ে সাবধান।
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খুনি, দুর্নীতিবাজ এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতে আগামীতে বাংলাদেশ সংস্কার হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র এবং বাংলাদেশ এলডিপি’র মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ অন্তবর্তীকালিন সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ভারতের এমন বক্তব্যে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। সরকারের উচিত এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করা। ভারত যদি আমাদের উপর চোখ রাঙায়, তাহলে সেই চোখ উপড়ে ফেলার ক্ষমতা আমাদের আছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন শুধু কোটার জন্য করা হয়নি, এটা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধের আন্দোলন ছিল।
তিনি আরও বলেন, আপনাদেরকে আরও কঠোর এবং শক্ত হতে হবে। আমরা আপনাদেরকে সাহায্য করবো। আপনারা মৌলিক সংস্কার করে একটা সুন্দর নির্বাচন দিবেন।
১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ১২ দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক উইপ জয়নুল আবদীন ফারুক। আরও বক্তব্য রাখেন ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব শাহ আহমেদ বাদল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, ইসলামী ঐক্য জোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আমীন, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি পিএনপি’র চেয়ারম্যান ফিরোজ মো. লিটন ও নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি মাস্টার এম এ মান্নান। সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ এলডিপির অতিরিক্ত মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু প্রমুখ।












