জনতার আওয়াজ ডেস্ক
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন,হাইব্রিড নেতাদের কথা বলছেন এগুলো নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নাই। এরা পাকিস্তান আমলে ছিল। বাংলাদেশ আমলেও আছে আগামীতেও থাকবে। এরা সুবিধাবাদী এরা সব সময় থাকবে। তবে গত ১৬-১৭ বছর বিএনপি’র জন্য যারা কষ্ট করেছে তাদের বাদে অন্য কিছু হবে না। প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, “যাই ঘটুক, নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। কিন্তু আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী ৬ মাস হুঁশিয়ার সময়। এই সময়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ১৬-১৭ বছর কষ্ট করেছেন, তাই এই সময়টা আমাদের আরও সজাগ থাকতে হবে।”
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাদের থেকে কম বুঝেন না। আমাদের থেকে বেশি বুঝেন। তিনি ত্যাগী নেতাকর্মীদের পক্ষের মানুষ। যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের পক্ষের মানুষ। সেই জন্য চিন্তার কোন কারণ নাই।
সোমবার ২৭ জানুয়ারি রংপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রংপুর মহানগরের সাংগঠনিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, রংপুর বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেভাবে কাজ করছে তাতে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আগামী নির্বাচনে রংপুরের ৬টি সিটই বিএনপি পাবে। আমরা যার আদর্শ ধারণ করি, তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। তার ব্যাপারে এটুকু বললে কিন্তু শেষ হবে না। তিনি রণাঙ্গনের যোদ্ধা। আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। তিনি জীবনে কোন জায়গায় পরাজিত হয়েছেন এটা আমি দেখিনি। স্বাধীনতার ঘোষণা করার কথা ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এটা অনেকেই বলে। শেখ মুজিবুর রহমান তো আগেই সুটকেস গুছিয়ে রেখেছিলেন। তারপরে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের প্রথম বীর জিয়াউর রহমানের কে অসম্মান করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তার জুনিয়রকে সেনাপ্রধান বানিয়ে। তারপরে তিনি (শেখ মুজিবুর রহমান) যে কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিলেন সেই কথা তিনি রাখতে পারেননি। সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন। রক্ষী বাহিনী তৈরি করে হাজার হাজার বিরোধীদলের নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছিল।
তিনি বলেন, রাজনীতি কোন ছেলে খেলা না। যা খুশি তাই করবো। হাসিনা যা খুশি তাই করেছিল যার কারণে এমন দৌড় দিতে হয়েছে। এরকম পালানো বাংলাদেশে কেন দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বে আর কেউ পালায়নি। আওয়ামীলীগ আজন্ম চোর ছিল। রাজনীতি হচ্ছে মানুষের সেবা করার জন্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ ব্যাংক লুট খুন রাহাজানি করেছে।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান ১৬-১৮ বছর নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। দেশ ছাড়া, বাড়ি ছাড়া, জেল জুলুম, মামলা খেয়েছেন, স্বজন হারিয়েছে। তিনি তার একমাত্র ছোট ভাইয়ের জানাযায়ও আসতে পারেন নাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ ছিলেন দেখতে আসতে পারেন নাই। আল্লাহতায়ালা রহমত করেছেন দেখা হয়েছে। আমরা এক ঘণ্টা বসে থাকলে অধৈর্য হয়ে যাই। আর তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা নেতাকর্মীদের কথা শুনছেন পরামর্শ দিচ্ছেন এভাবে কিন্তু গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এক মাসে কিন্তু সবকিছু হয়ে যায় না। একমাসে সব কিছু হয়ে গেলে মা কিন্তু দশ মাস দশ দিন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করতেন না। এক মাসে সবকিছু হয়ে গেলে আমরা ১৬-১৭ বছর আন্দোলন করলাম তার কি হল। আমাদের ইলিয়াস আলী কোথায়? আমাদের প্রায় ২ হাজার নেতা কর্মী গুম হয়েছে। সেইজন্যে বর্তমানে যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে সেটা আমাদের অনুকূলে বলবো না। এটা জাতীয়তাবাদদের অনুকূলে। সৎ নির্ভীক মানুষের অনুকূলে।
সম্মেলন নিয়ে নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে কৃষকদলের সাবেক এই আহবায়ক বলেন, সম্মেলনের যে দিন ঠিক করা হলো যতদূর সম্ভব কালারফুল করতে হবে কমিটি গঠন করতে হবে। আর রাগ যন্ত্রণা নিয়ে ভালো মানুষটা যেন বাদ না যায়। এটা আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে। পাশে রাখার চেষ্টা করতে হবে। রংপুরকে বাংলাদেশের মডেল হিসাবে দেখাতে হবে। যে রংপুর সারা বাংলাদেশের পথ দেখাবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক,অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায় মোঃ সামসুজ্জামান সামু, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ
উন-নবী ডন সহ প্রমুখ।












