মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
চড়ক পূজা বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকোৎসব। মৌলভীবাজারে দুই দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আবহমান বাংলার ঐতিহ্য হিসেবে এই উৎসবটি উদযাপন করা হয়।
শনিবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় শহরের সৈয়ারপুর এলাকার চড়ক উৎসবের শেষ হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে শুরু হয় এই চড়ক পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পঁচিশ বছরের অধিক সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী এ পূজাটি। যা কেন্দ্র করে জেলা শহরের আশপাশের এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল।
আয়োজকেরা জানান, পূজার প্রথম দিন নিশিরাতে মানুষরুপি কালী সেজে নৃত্য করে। অন্য ভক্তরা নৃত্যের তালে তালে, ছন্দে ছন্দে ঢোলক, কাশি, করতাল বাজিয়ে থাকেন। এ সময় দর্শনার্থীরা জয়ধ্বনি এবং নারীদের কণ্ঠে উলুধ্বনি দিতে থাকেন।
এছাড়াও শিবের ওপর উঠে কালী ভয়ানক এক অদ্ভুত রুপ ধারণ করেন। এ সময় উপস্থিত দর্শনার্থী সবাই আতঙ্কিত হলেও এ দৃশ্যটি খুবই উপভোগ করেন।
চড়কপূজা উদযাপন কমিটির অন্যতম আয়োজক মুগ্ধ দেব মৃন্ময় জানান, দু’দিনব্যাপী চড়ক উৎসবে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে উৎসবস্থলে। দ্বিতীয় দিনের বিকেলে ভক্তরা শিব গৌরীর নৃত্য ও কালীর নৃত্য দেখানো হয়। দেবতার পূজা-অর্চনা শেষে সূর্যাস্তের আগ মুহূর্তে ৪ জন ভক্তকে চড়ক গাছে ঘোরানো হয়।
পুরোহিত গোপাল চৌধুরী বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারও নারী-পুরুষ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল।
সুন্দর মতোই চড়ক পূজা সুষ্ঠভাবে সুসম্পন্ন করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।












