ডেস্ক নিউজ
তার পাশে নেই কোনো দল। নেই অর্থ-কড়িও। প্রচার-প্রচারণাও ছিল না বললেও ভুল হবে না। সেই শাহজাহান মাস্টার চমকে দিয়েছেন ভোটের লড়াইয়ে। পেয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার ভোট। কে এই শাহজাহান মাস্টার। বেঁচে থাকার তাগিদে হোটেলে বয়গিরি, ক্বীন ব্রিজে রিকশা ঠেলানো, এমনকি কিছুদিন রিকশাও চালিয়েছেন তিনি। সেই শাহজাহান মাস্টার বুধবার সন্ধ্যা থেকে আলোচনার কেন্দ্রে। এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শাহজাহান মাস্টার ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নিজের ভাঙাচুরা এক বাইসাইকেল চালিয়েই করেছেন প্রচারণা।
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর সর্বত্র প্রশ্ন- এত ভোট এলো কোত্থেকে। এই ভোট পেয়ে তিনি হয়েছেন সিটি নির্বাচনের ফলাফলে তৃতীয় স্থানের অধিকারী।
তিনি এখনো ফেরি করে ওষুধ, কলম, মোমবাতি, ব্লেডসহ নানা পণ্য বিক্রি করেন। আর দিন শেষে যা আয় হয় তা নিয়ে চলে তাদের সংসার। বুধবারের নির্বাচনের পর গতকাল দুপুরে কথা হয় শাহজাহান মাস্টারের সঙ্গে। এত ভোট কিভাবে পেলেন?- ‘জবাবে সহজ উত্তর; ‘মানুষ ভালোবেসে দিয়েছে। আমার কোনো পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট কিছুই ছিল না। প্রচারণা চালাতে পারিনি। তবে- নিজের বাইসাইকেল নিয়ে ঘুরে ঘুরে নগরের মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেছি। প্রচারণার শেষ দিনে পরিবহন শ্রমিক নেতা লিটন আরমান একটা মাইক্রোবাস দিয়েছিলেন। সেই মাইক্রোবাস দিয়ে কয়েক ঘণ্টা নগরে ঘুরে বেরিয়েছি। এর বেশি কিছু নয়।’ শাহজাহান মাস্টারের এই ভোটের হিসেব নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে তাদের মতে- মানুষ যখন ভোট দেয়ার জায়গা পায় না তখনই একটা সিদ্ধান্ত নেয়। এমনটি ঘটেছে তার ক্ষেত্রে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট দিতে বিরোধী মতের অনেকেই কেন্দ্রে এসেছিলেন। তারা ভোট দেয়ার জায়গা না পেয়ে হয়তো প্রতিবাদস্বরূপ শাহজাহানকে দিয়ে গেছেন। এদিকে, আলোচনায় থাকা শাহজাহান মাস্টার বুধবার রাত থেকে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাকে দেখতে যাচ্ছেন অনেকেই। মিডিয়াকর্মীদের উৎসাহ তাকে ঘিরে। প্রযুক্তির কল্যাণে তার বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে দেশে ও বিদেশে। মানবজমিনের কাছে শাহজাহান মিয়া তুলে ধরেছেন তার অতীত কথা। তার বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দার বিসাকা গ্রামে।
নিতান্তই গরিব পরিবারের সন্তান তিনি। দিন আনে দিন খায় তার পরিবার। তিনি তখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। বয়স এগারো বছর। অভাবের তাড়নায় তিনি তারাকান্দা থেকে পাড়ি জমান সিলেটে। নগরের চৌহাট্টার একটি হোটেলে বয় হিসেবে কাজ করেন। তবে- পড়ালেখা ছাড়েননি তিনি। ভোলানন্দ নাইট স্কুলে পড়ালেখা শুরু করেন। এক সময় হোটেল থেকে চাকরি চলে যায়। এরপর নগরের ক্বীন ব্রিজে রিকশা ঠেলানোর কাজ করেন। একটু বড় হতে নিজেই ভাড়া করা রিকশা নিয়ে চালাতেন। এভাবেই কেটেছে তার সময়। এখন তিনি ফেরিওয়ালা। একটি ভাঙাচুরাা বাই সাইকেল আছে। সেই বাইসাইকেলে পণ্য নিয়ে তিনি দোকানে দোকানে ফেরি করেন। বর্তমানে তিনি নগরীর ঘাষিটুলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিবাহিত। এক সন্তানও রয়েছে।












