• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সিলেটে ‘গর্জে-বর্ষে’ কুপোকাত জামায়াত

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:৩৫
আপডেট: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:৩৫

9658428 1

সিলেটে ‘গর্জে-বর্ষে’ কুপোকাত জামায়াত

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
কথায় আছে ‘যত গর্জে, তত বর্ষে’ না। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রায় সমান্তরাল প্রচারণায় ছিল বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। ভোটের জোটেরও নেতৃত্বে ছিল জামায়াত। সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে ১০টিতে দলীয় প্রার্থী রেখে বাকি ৯টি আসনে প্রার্থী সরিয়ে নিয়েছিল জামায়াত। ১৯টি আসনের মধ্যে কেবল একটি আসনে জামায়াত-জোট মনোনীত খেলাফত মজলিস প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনটি হচ্ছে, সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট)। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটগতভাবে নির্বাচন করে সেখানে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার জামায়াত তার প্রার্থী সরিয়ে দিয়ে জয় পেয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান। এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়ত নেতা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদের সঙ্গে লড়ে বিজয়ী হয়েছেন আবুল হাসান।

বড় বিজয়ের আশায় জামায়াত জাতীয়ভাবে প্রচারণার সামাপ্তিও করেছিল সিলেট বিভাগে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে সাড়ম্বরে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ভূমিধ্বস জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু ভোটের ফলাফলে দেখা গেল, জামায়াত কুপোকাত। দলীয় প্রার্থী কেউ জিততে পারেননি। তবে আগের তুলনায় ভোট বেড়েছে জামায়াতের।

বিএনপি গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছিল, ঠিক সেই স্থানটিতে প্রচার সমাপ্তির সমাবেশ করেছিল জামায়াত। হারার পেছনে প্রাথমিকভাবে জামায়াত আমিরের ব্যক্ত করা ‘লাইলাতুল গুজব’কে কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতারা। তবে ফলাফল নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সিলেট : সিলেট-১ আসনে ১৯৯১ সালে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন করেছিলেন। এরপর সেখানে আর একক প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। প্রায় ৩৩ বছর পর ভোটের মাঠে জামায়াত একক প্রার্থী দিয়েছিল। সেখানে বিএনপির বিজয়ী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট।

সিলেট-২, সিলেট-৩ ও সিলেট-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী সরিয়ে জোটে সমর্থন দিয়েছিল। সিলেট-৪ আসনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতের জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট। সিলেট-৬ আসনে বিএনপির বিজয়ী এমরান আহমেদ চৌধুরী ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট।

মৌলভীবাজার: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্মস্থান মৌলভীবাজারেরও সবকটি আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। মৌলভীবাজার-১ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠুর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ৭৮ হাজার ২১৪ ভোট পেয়েছেন।

মৌলভীবাজার-২ আসনে বিএনপির বিজয়ী মো. শওকতুল ইসলাম শকুর সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী মো. সায়েদ আলী পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৯৮ ভোট। মৌলভীবাজার-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী এম নাসের রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৩৬২ ভোট।

সুনামগঞ্জ : জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে সরাসরি প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। এরমধ্যে সেখানে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী ছিলেন সুনামগঞ্জ-২ আসনে মোহাম্মদ শিশির মনির। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনিরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা নজর কেড়েছিল। তিনি হেরেছেন বিএনপির প্রার্থী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নাছির চৌধুরীর কাছে। নাছির চৌধুরী ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শিশির মনির পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট।

সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিজয়ী বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের তোফায়েল আহমদ খান পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৬ ভোট।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির নুরুল ইসলাম নুরুল ৯৮ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের মুহাম্মদ শামছউদ্দিন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩৫ ভোট।

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ১ লাখ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ২১ ভোট।

হবিগঞ্জ : চারটি আসনের সবকটিতে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। হবিগঞ্জ-১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে জি কে গউছ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে এসএম ফয়সল বিজয়ী হয়েছেন।

জামায়াত শুরুতে সেখানকার সবকটি আসনে প্রার্থী দিলেও শেষে জোটের সমীকরণে একটি মাত্র আসনে প্রার্থী দেয়। আসনটি হচ্ছে হবিগঞ্জ ৩। সেখানে বিএনপির প্রার্থী জি কে গউছ ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৬৮ ভোট পেয়েছেন।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com