জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
ফাতেমা জামান রুজি। সিলেট নগরীর বাসিন্দা। ১৯৯০ সাল থেকে বিএনপির ওয়ার্ড কর্মী থেকে যার জাতীয়তাবাদি রাজনীতি শুরু। দলের হয়ে রাজপথে আন্দোলন, সংগ্রামে লড়ে গেছেন এই নারী। দলের দু:সময়ে থাকা পরীক্ষিত নেত্রী ফাতেমা জামান রুজি সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা পদে রয়েছেন। সেই রুজি এবার সংসদে যেতে চান। সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে চান মানুষের অধিকার নিয়ে।
ব্যবসায়ী পরিবারের গৃহবধূ রুজির এক মেয়ে ও চার ছেলে সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে দুজন সিলেটের প্রথিতযশা আইনজীবী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা ফাতেমা জামান রুজি। তাকে নিয়ে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দলীয় ফোরাম, সহযোগী সংগঠন এবং আইনজীবী মহলে সম্ভাব্য যে কয়েকটি নাম ঘুরপাক খাচ্ছে তার মধ্যে রুজি অন্যতম।
জানা যায়, ১৯৯০ সালে ওয়ার্ড কর্মী থেকে যাত্রা শুরু করা ফাতেমা জামান রুজির আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আর তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা রুজি সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা ও সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০০১ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সাথেও কাজ করেছেন। এরপর ২০০২ সালে সিলেট মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ থেকে ২০০৫ সাল দলের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০০৩ সালে সিটি নির্বাচনে প্রয়াতএম এ হকের সমর্থনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে দলের হয়ে কাজ করেন। ২০০৬-২০২৫ পর্যন্ত সরকার বিরোধী স্বৈরাচার হাসিনা হটানোর আন্দোলনে সিলেটে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার নেতৃত্বে ছিলো মহিলা দলের সক্রিয় ভূমিকা। দলের নিবেদিত প্রাণ রুজি সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে সিসিক নির্বাচনে ভোটের প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে নির্বাচন পরিচালনার জন্য মহিলা নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ভোটের মাঠে কাজ করার অভিজ্ঞাও রয়েছে তার।
এছাড়া ২০১৩ -২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা পদে থেকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়ায় দলের দুঃসময়ে দল তাকে পরীক্ষিত নেত্রী হিসেবে সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব দেয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার জন্য নেতৃত্ব বাছাই করার জন্য পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সিলেটের অলিগলি ঘুরে বেড়ান। দলের দায়িত্বশীল পদ থাকার পর বিএনপির জন্য কাজ করতেও পিছপা হননি তিনি। দলকে সংসগঠিত করার জন্য সিলেট মহানগর ৩৮ টি ওয়ার্ড মহিলা দলের আহবায়ক কমিটি গঠন করেন। পরে সফলভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে সক্ষম হন।
এয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের হয়ে ভোটের মাঠে ভ্যান গার্ড হিসেবে কাজ করেন রুজি। মুক্তাদির জন্য সাধারণ জনগণের কাছে দলের ইশতেহার তুলে ধরতে সক্ষম হন তিনি। সিলেটের অোন্দোলনে সক্রিয় থাকার পরেও নেতৃবৃন্দের ডাকে সাড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচিতে ঢাকায় গিয়ে শেখ হাসিনা পদত্যাগ দাবিতেআন্দেলনে সক্রিয় ছিলেন এই নারী নেত্রী।
অপরদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চৌহাট্টা ও জিন্দাবাজারে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হেনেস্তার শিকার হন পূনরায়। তার বাসায়ও পুলিশ হামলা চালায় এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের ভয়ভীতি দেখায়। তার বাসায়ও গুলি ছোঁড়ে পুলিশ, এখনো সেখানে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের বিষয়ে ফাতেমা জামান রুজি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচিতে ঝুঁকি নিয়েও দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে কাজ করে গিয়েছি এবং কাজ করেও যাবো। সিলেটের আন্দালনে সংগ্রামের পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ছিলাম সরব। পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই দলের পক্ষে ভূমিকা রেখেছি। দলীয় আদর্শের পথে চলতে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলেও কখনও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি।
তিনি বলেন, অনেক সময় বাসায় থাকতে পারিনি, পরিবার-পরিজনের সঙ্গ থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। আমি চাই, সিলেটেআমার এই দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মূল্যায়ন করা হোক। ব্যক্তিগত জীবনে আমি কোনো প্রাপ্তির কথা ভাবিনি; শুধু আদর্শ ও দলের জন্য কাজ করে গিয়েছি।












