সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ফলে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। এদিকে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরো ভারী বৃষ্টিপাতে পূর্বাভাস দেওয়ায় আতঙ্কিত মানুষ।
বুধবার (১৯ জুন) ভোর থেকে শহরে ফের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টয় আরো ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে।
এদিকে লাগাতার ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এতে জেলার পানি বন্দি মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। মানুষজন ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় সব উপজেলার রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
একই এলাকার আরেক গৃহিণী বুহিনা জানান, গত তিন দিন ধরে বসতঘরে পানি উঠেছে। ফলে নাওয়া-খাওয়া না থাকায় প্রাণে বাঁচতে স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন তিনি।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৪০ সেন্টিমিটার কমে এখন বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নতুন করে সুনামগঞ্জ পৌরশহরের নডুনপাড়া হাছননগর, মল্লিকপুর, ওয়েজখালী, হাজিপাড়া, বাঁধনপাড়ায় ও কালীপুর ঘরের ভেতর হাটু থেকে কোমর পানি কোথাও বুক পানি হয়ে আছে।
সুনামগঞ্জের উপজেলার মধ্যে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা। ছাতকের সব ইউনিয়নে ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি। এই উপজেলার একমাত্র সড়ক পানির নিচে থাকায় সারাদেশের সঙ্গে সড়ক পথে সব যোগাযোগ বন্ধ।
একইভাবে দোয়ারাবাজার উপজেলার সব ইউনিয়নের মানুষ বন্যার পানিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। সুনামগঞ্জ, বিশ্বম্ভপুর ও তাহিরপুরের একমাত্র সড়কটি ওপর কয়েক ফুট পানি থাকায় সুনামগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।












