জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। তবে সবজির দাম এখনো উচ্চমূল্যে স্থির রয়েছে। কাঁচা পেঁপে ছাড়া প্রায় সব সবজি ১০০ টাকার ওপরে। কমেনি ডিমের দাম। মাছের দামও বাড়তি। ইলিশমাছের ভরা মৌসুমেও কমে না দাম।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরবরাহ বাড়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন বাজারে সেই মুরগি গতকাল কমে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। একইভাবে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকার সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়।
এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. ফয়েজ খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘মুরগির সরবরাহ বাড়লে-কমলে দামও কমে-বাড়ে। গত সপ্তাহে বাড়লেও এ সপ্তাহে কমেছে। পাইকারি বাজারে কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারি।’ তবে আগের মতোই দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
এদিকে মুরগির কমলেও ডিমের দাম আগের মতোই চড়া। বিভিন্ন বাজারে তা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. কামাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘পাইকারিতে দাম কমে না। এ জন্য আমরাও ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি করছি।’ অন্য বাজারের বিক্রেতারাও একই তথ্য জানান।
সবজি, ডিমের মতো গতকাল মাছও চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা যায়। ইলিশমাছের ভরা মৌসুম চলছে। তার পরও কমছে না দাম। ১ কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা। আর ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১৭০০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়। তেলাপিয়া মাছও আকারভেদে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। আকারভেদে রুই, কাতলমাছও ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, কাচকি ৫০০ থেকে ৭০০, চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। বিভিন্ন বাজারের মাছ বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে কমে দাম। তাই আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি না।
কাঁচা মরিচ ১৬০-২০০ টাকা কেজি
গত মাসে হঠাৎ করে কাঁচা মরিচের দাম অস্থির হয়ে যায়। তা ৪০০ টাকায় ঠেকে। সরকার বাধ্য হয়ে আমদানির ঘোষণা দিলে দাম কমতে শুরু করে। গত সপ্তাহে বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। সপ্তাহের ব্যবধানে অন্য সবজির দামও কমেনি। আগের মতোই করলা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা, ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ কেজি, কাঁচা পেঁপে ৪০ থেকে ৫০, শসা ৬০ থেকে ১০০, কচুর লতি ১২০, গাজর ৮০ থেকে ১০০, টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বেগুনের দাম কমে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
কমেনি পোলাও চালের দাম
গত জুলাই মাসে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত পোলাও চাল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা ও বস্তার খোলা এই চাল ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। এর পর আর দাম কমেনি। গতকালও বিক্রেতাদের চড়াদামে বিক্রি করতে দেখা যায়। অন্য চালও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে মিনিকেট ৬৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ ও মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হয়।
আগের মতো গতকালও পেঁয়াজ ৬০ টাকা, আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৮০ ও আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ টাকা, ২ কেজির আটা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, মসুরডাল ১২০ থেকে ১৬০ টাকা ও ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সুগন্ধি পোলাও চালসহ আটটি পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে কমেছে কাঁচা মরিচ, বেগুন ও শসার দাম।









