বিশেষ প্রতিনিধি
শীর্ষ খবর গ্রাফিক্স
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়গুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনী প্রধান সম্পর্কিত যেকোনো তথ্যের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে আইএসপিআর এই আহ্বান জানায়।
এতে আইএসপিআর বলেছে, সুদৃঢ় চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক আস্থা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা ঐক্যবদ্ধ এবং দেশ ও জনগণের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আইএসপিআর জানিয়েছে–সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সেনাবাহিনী প্রধানকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। মূলত এসব তথ্যের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য সাবাইকে বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’-এর ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণেও সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওইসব অপতথ্যের অধিকাংশই ‘এআই’ নির্মিত এবং ভিত্তিহীন।
‘রিউমর স্ক্যানার’-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাহিনীর উচ্চপদস্থ নেতৃত্বকে ঘিরে অন্তত ৯৬টি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যাটি ছিল ৭৪টি। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে অপতথ্য ও গুজবের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
একই সময়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে ২১টি সুনির্দিষ্ট ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়, যা নিরপেক্ষ ফ্যাক্টচেকিংয়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। শুধু সেনাবাহিনী নয়, সামগ্রিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ১৯৫টি অপতথ্য শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার।













