শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমীন বিজয়ী হয়েছেন। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি’র প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার ৯৭৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৪৮১ ভোট। ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে এ ফলাফল ১৬৮ কেন্দ্রের। তবে বাকি কেন্দ্রগুলোর ভোটের চেয়ে বিএনপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট বেশি।
এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলিম নিজামী বটগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯৫ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৬৯ ভোট। আর বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ১৮ ভোট। ভোটগ্রহণ শেষে ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়। ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। আসনটিতে মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
ওদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ ও দলীয়করণের অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় মগবাজার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া, ভোট দেয়ার আগেই ভোট প্রদান হয়ে গেছে বলে আমরা এখন পর্যন্ত তথ্য পেয়েছি। ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় গভীর উদ্বিগ্ন আমরা। এজন্য নির্বাচন কমিশন, ঠাকুরগাঁওয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অবশিষ্ট সময়ের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারদলীয় শীর্ষ পদে থেকে এ উপনির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করা হলেও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ইসি’র প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ৯ দফা লিখিত অভিযোগ ও তিনটি দাবি পেশ করেছিল। পরবর্তী সময়ে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের কাছে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছি আমরা। কিন্তু এসব অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার দৃশ্যমান হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বা পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যাজ দেখা যায়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে কোনো কোনো কর্মকর্তা যথাযথ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। কয়েকটি ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ভোটারকে ব্যালট দেয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিল ও স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার কথা। আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখার ফলে জাল ভোটের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্বাচনী এলাকায় অর্থ বিতরণও করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছিলাম আমরা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বেশি থাকলেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে-এমন নিশ্চয়তা নেই। ভোটারদের নিরাপত্তা, জালভোট প্রতিরোধ এবং ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকা থাকতে পারতো।
তিনি বলেন, একটি উপনির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন কীভাবে নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।













