শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
প্রজাতন্ত্রের স্থায়ী কর্মকর্তা (আমলা) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় না আনলে কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা মন্ত্রীরা সাময়িক মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জনগণের করের টাকায় স্থায়ীভাবে বেতন পান; তাই তাদের প্রতিদিনের কাজের হিসাব নেওয়া জরুরি।
সোমবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (কেআইবি) অ্যাকশন ফর ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) আয়োজিত ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
আমলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা
বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার প্রশাসনের জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, রাজনীতিবিদ বা এমপি-মন্ত্রীরা টেম্পোরারি (সাময়িক) সময়ের জন্য একাউন্টেবল। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাঁর চাকরি জীবনের প্রতিদিনের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য। আমরা তাঁদের কতটুকু জবাবদিহিতার মধ্যে আনি? সামহাউ না সামহাউ কোথাও কমপ্রোমাইজ হয়ে যায়।
আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার উদাহরণ টেনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তার ছেলের গাড়িচাপায় পথচারী নিহতের ঘটনায় পুলিশি আপসের যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহিতার চরম অভাবকেই স্পষ্ট করে। এছাড়া সরকারি ১০৩৮ হেল্পলাইনের মতো জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো প্রচার না হওয়ার পেছনেও এক্সিকিউটিভদের গাফিলতি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিশু অধিকার ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানের তথ্য উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতিসংঘের হিসাব মতে আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন, যার মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশই ছিল শিশু। যে কোনো সংকটকালে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভিকটিম হয়।
তিনি ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে যেন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে না রাখা হয়—সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং পথশিশুদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মানবিক পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেন।
শিশুদের কল্যাণে ঐতিহাসিক পদক্ষেপের স্মরণে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালে পৃথক শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন ও অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। এর আগে ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশু পার্ক ও শিশু কল্যাণ অডিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ভবিষ্যতে শিশু অধিকার সংক্রান্ত আলোচনাগুলোতে শুধু এমপি বা রাজনীতিবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নীতি বাস্তবায়নকারী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি, যাতে সরাসরি সংলাপ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
এএসডি আয়োজিত এই বিশেষ সংলাপে ডেপুটি স্পিকার ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, বিথিকা বিনতে হোসাইন, শওকত আরা আক্তারসহ এনজিও ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।












