শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয় জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছে জামায়াত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, বিটিএমএর নেতারা তাদের খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর ও শুল্ক এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত আমীর জানিয়েছেন, বিরোধীদল হিসেবে সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়। তারা গঠনমূলক বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চান। সরকারের জনস্বার্থ ও দেশের কল্যাণে নেওয়া উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে। আর জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা, সমালোচনা করা এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
গ্যাস নিয়ে সুখবর, খনন করা নতুন কূপে মিলেছে গ্যাসের সন্ধানগ্যাস নিয়ে সুখবর, খনন করা নতুন কূপে মিলেছে গ্যাসের সন্ধান
তিনি বলেন, রফতানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করা, দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা সংরক্ষণ, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধেও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
টেক্সটাইল খাতের এসব সমস্যা জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
বিটিএমএর ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে টেক্সটাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। খাতটির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং কিছু সমস্যার সমাধানও হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর বৃদ্ধি ও বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েকটি কারখানা এখনও সমস্যার মুখে রয়েছে। এনার্জি বন্ড ও সুতার অপব্যবহারসহ কিছু বিষয় নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পোশাকসংশ্লিষ্ট ‘বাটেক্সপো’ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার প্রধান অতিথি না হওয়া প্রসঙ্গেও কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে। এবার এতে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে বিরোধীদলীয় নেতা নিজে প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য কোনও দাবি বা অনুরোধ করেননি।
তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতকে দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণতার মধ্যে আবদ্ধ করা উচিত নয়। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সব পক্ষের সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
বৈঠকে বিটিএমএর প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল, ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার, পরিচালক মো. শাহিদ আলম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসেন মেহমুদ, পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, সাবেক পরিচালক মোশারফ হোসেন, সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ জিয়াউর রহমানসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিনসহ অন্যরা।












