শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেয়ালচিত্র মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।
রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল গাফফার হিমেল আসামিদের আদালতে হাজির করে এ আবেদন করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাকিবুল হাসান (১৯), সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭)। চার আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। শুনানির সময় তাদের এজলাসে তোলার কথা জানিয়েছেন হাজতখানার ইনচার্জ এসআই মোরশেদ আলম।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেয়ালচিত্র মোছার চেষ্টার ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক মামলাটি করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেয়ালচিত্র মোছার চেষ্টা করেন একদল তরুণ। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের দেয়ালচিত্রতে কালি দিতে দেখা যায়। এ সময় এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। ওই নারী বলেন, তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। পুলিশের বাধার মুখে আয়াসের নেতৃত্বে তারা স্লোগান দেন।
গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরপর ফুটপাতের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের দেয়ালচিত্র আঁকা হয়।
শুক্রবার ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে এসব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের দেয়ালচিত্র আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়ে তাদের দেয়ালচিত্র আঁকা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।
শনিবার ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক এসব দেয়ালচিত্র মোছার চেষ্টা করেন।













