জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ভ্যাট বৃদ্ধি ও টিসিবির ট্রাক সেল বন্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ৫ দফা প্রস্তাবও পেশ করেছে তারা।
ওষুধ, এলপি গ্যাস, গুঁড়া দুধ, মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবাসহ শতাধিক পণ্য ও সেবায় শুল্ককর ও ভ্যাট বাড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা দু’টি অধ্যাদেশ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। একইসঙ্গে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ট্রাকে করে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছে তারা।
আখতার হোসেন বলেন, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর জন্য দু’টি অধ্যাদেশ জারি করার ফলে মূল্যস্ফীতি ও ব্যবসার খরচ বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকার রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য করের আওতা বাড়াবে এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু কর বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারকে স্মরণ রাখতে হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান যাতে নেমে না যায় ও তাদের ভোগান্তি যাতে না বাড়ে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট সরকারের কাছে আমাদের প্রশ্ন; অবৈধ সরকারের ঋণের এই শর্ত বর্তমান সরকার পুনর্বিবেচনার জন্য আইএমএফকে আহ্বান জানিয়েছে কি? তারা একটি অবৈধ সরকারের চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনগণের দুর্ভোগ বাড়াতে পারেন না।
অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরে কমিটির সদস্য সচিব বলেন, সরকার প্রত্যক্ষ করের আওতা বাড়াতে পারে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনমানের ক্ষতি করবে না। বিদ্যমান কর কাঠামোয় যে সীমাহীন দুর্নীতি হয় তা বন্ধ করার উদ্যোগ নিলে রাজস্ব আয় বাড়বে। বিগত সরকার ১৫ বছরে বিদেশে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করেছে– দেবপ্রিয়ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে শ্বেতপত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেগুলো দেশে ফেরত আনার জন্য সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।













