আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে ‘দেশের নেতা’ বলতে একজন প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীকেই বোঝায়। কিন্তু বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ক্ষেত্রে হিসাবটা এত সহজ নয়। দেশটির নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তিন জাতিগোষ্ঠী, একাধিক প্রশাসনিক স্তর এবং ক্ষমতার জটিল বণ্টন। ফলে ‘বসনিয়ার নেতা কে?’ এই সহজ প্রশ্নের উত্তরও বেশ কঠিন।
বিশ্বের অন্যতম জটিল শাসন ও নির্বাচনী কাঠামোর দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় রবিবার (৪ অক্টোবর) সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ভোট চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে দেশটিতে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩৪ লাখ। ৭ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে বিভিন্ন স্তরের শাসনব্যবস্থায় মোট ৫১৮ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
ভোটাররা তিন সদস্যের প্রেসিডেন্সি, জাতীয় সংসদের আইনপ্রণেতা এবং দুটি প্রধান প্রশাসনিক সত্তার বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি বেছে নিচ্ছেন। সত্তা দুটি হলো বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ফেডারেশন (এফবিআইএইচ) এবং সার্ব-অধ্যুষিত রিপাবলিকা স্রপস্কা।
দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি ১৯৯৫ সালের ডেটন শান্তিচুক্তি। এর আগে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বসনিয়াক, অর্থোডক্স সার্ব ও ক্যাথলিক ক্রোয়েটদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে যে শান্তিচুক্তি হয়, তার ভিত্তিতেই তিন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার লক্ষ্যে বর্তমান শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
তবে দীর্ঘদিনের জাতিগত বিভাজন ও যুদ্ধকালীন রাজনীতির ধারা নিয়ে অনেক ভোটারের মধ্যে হতাশা রয়েছে। উত্তর বসনিয়ার তুজলা শহরে ভোটের আগে ৩৪ বছর বয়সী ‘কার্টন রেভোলিউশন’ আন্দোলনের কর্মী আদি সেলমান এএফপিকে বলেন, এবারের নির্বাচনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন না।
তার ভাষ্য, গত ৩০ বছর ধরে টিকে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই ভোটের সুযোগ সীমাবদ্ধ। এসব দল মূলত যুদ্ধ, উত্তেজনা, বিভেদ ও অতীতের বিষয়কে সামনে রেখে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।
শুক্রবার রাতে রিপাবলিকা স্রপস্কার রাজধানী বানজা লুকায় নিজ দল ‘অ্যালায়েন্স অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস’ (এসএনএসডি)-এর শেষ নির্বাচনী সমাবেশে দলটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিলোরাড ডোডিক বলেন, ‘বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা মৃত; এটি একটি অসম্ভব রাষ্ট্র।’
অন্যদিকে এফবিআইএইচে বসনিয়াক দলগুলো শক্তিশালী কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির বর্তমান বসনিয়াক প্রেসিডেন্সি সদস্য ডেনিস বেচিরোভিচ ইইউ ও ন্যাটোতে যোগদানের নতুন পথ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বসনিয়াকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদের প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। ব্রাসেলসের পক্ষ থেকে দেশটিকে দুর্নীতিবিরোধী আইন আরও কঠোর করা এবং বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের মতো শর্ত পূরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ক্রোয়াট জাতীয়তাবাদী দলগুলো নির্বাচনী সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। তারা এমন একটি ব্যবস্থার পক্ষে, যেখানে বসনিয়াক জনগোষ্ঠীর তুলনায় সংখ্যায় কম হলেও প্রেসিডেন্সির ক্রোয়াট সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ক্রোয়াটদের আরও বেশি ভূমিকা বা মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে বসনিয়ার ইইউতে যোগদানের প্রক্রিয়া ধীর করার জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। রিপাবলিকা স্রপস্কার বিচ্ছিন্নতাপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এসএনএসডির সঙ্গে মস্কোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও রয়েছে।
নির্বাচনে জালিয়াতি ও কারচুপি কমাতে এবার প্রথমবারের মতো ব্যালট পেপার স্ক্যান এবং বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ভোটারের আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এরপর রোববারই প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা













