শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদনের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছেছে। এর আগে গত ৬ অক্টোবর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা পড়েছিল ৫ হাজার ৯৯১টি। কিন্তু আবেদনের শেষ দিন ৭ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ে আবেদনকারীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। শেষ দিনে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় মোট আবেদন প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছেছে বলে খবরের কাগজকে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।ঘড়ি কিনুন
বুধবার (৭ অক্টোবর) এসব তথ্য জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের পর বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য আর কোনো নতুন আবেদন নেওয়া হবে না।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাদের জামুকার নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে। কমিটির মাধ্যমে তদন্ত, সাক্ষাৎকার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত যোগ্যদের তালিকাভুক্ত করা হবে। সত্যিকারের কোনো মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে থাকলে যাচাই-বাছাই শেষে কেবল তাদেরই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ এবং শহিদ ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নির্মোহভাবে যাচাই-বাছাইয়ের আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কোনো মিথ্যা বা কলঙ্ক রাখতে চান না। অতীতে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর যে ‘ফ্যাক্টরি’ তৈরি হয়েছিল, তা আর হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে, নতুন করে আবেদন নেওয়ার পাশাপাশি আগের বেশ কিছু আবেদনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। গত ১৯ আগস্ট জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির ৬১৫টি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। একই সময়ে বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি আবেদনও শুনানির অপেক্ষায় ছিল।
ওই বৈঠকে আরও জানানো হয়, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ৬ হাজার ৪৬৫ জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ১৮ হাজার ৪১৭ জনকে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ১৬ হাজার ৯২২ জন, শহিদ ৭৬৮ জন, যুদ্ধাহত ১৯৮ জন ও বীরাঙ্গনা ৫২৯ জন।
মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দুই লাখ তিন হাজারের কিছু বেশি। নির্ভুল তালিকা তৈরির কাজ শেষ করতে কত সময় লাগবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।












