শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও লুটপাট করে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-নেতারা এখন ভারত ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসে ফূর্তি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন এবং জাতীয়তাবাদের বিকাশ, ব্যুৎপত্তি ও উৎকর্ষ সাধনে অনবদ্য সৃষ্টি কমল কুঁড়ির রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খাঁন বলেন, বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ যে লুটপাট চালিয়েছে, সেই লুটপাটের টাকায় তারা বিদেশে বসে দিনযাপন করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তারা যে রক্তপাত ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তার পরও অনেকে তাদের রাজনৈতিক ‘পুনর্মিলন’ বা ‘রিকনসিলিয়েশন’-এর কথা বলেন। যারা এ ধরনের কথা বলছেন, তারা মূলত এই ফ্যাসিস্ট দলকে আবারও ফিরিয়ে আনতে চান। কিন্তু বিএনপি, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোনো ফ্যাসিস্টকে আর বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার সুযোগ দেবেন না।
তিনি ছাত্ররাজনীতি ও ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল দীর্ঘদিন ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ছাত্রলীগের নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। গণঅভ্যুত্থানের পর অনেকে বোঝাতে চান, ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু ছাত্রদল কোনো দখলদারি করছে না; তারা মেধার বিকাশের মাধ্যমে সারা দেশে ইতিবাচক রাজনীতি করছে।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে রাজনীতি না করে কখনো সামাজিক সংগঠন, কখনো সাধারণ শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীদের ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে দখলদারি কায়েম করতে চাইছে। তারা প্রকাশ্যে রাজনীতি করলে আপত্তির কিছু থাকত না। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলন-সংগ্রামের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার সমালোচনা করে দলটিকে ছদ্মবেশী রাজনীতি ছেড়ে প্রকাশ্যে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্বপ্ন—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারভিত্তিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ ও অবদান জাতির সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের জন্য দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ জানান।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন ও জাতীয়তাবাদের বিকাশ নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি। উদ্বোধক ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কমল কুঁড়ির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন, স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি।












