• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

চট্টগ্রাম নগর আ’লীগ ও বিএনপি কত মাসে বছর কেউ জানে না

প্রকাশ: রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩ ৮:৫১
আপডেট: রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩ ৮:৫১

চট্টগ্রাম নগর আ’লীগ ও বিএনপি কত মাসে বছর কেউ জানে না

নিউজ ডেস্ক
ছয় বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। বারবার উদ্যোগ নিয়েও বিভেদ-বিভক্তির কারণে চট্টগ্রামে গঠন করা যাচ্ছে না কমিটি। কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে একাধিকবার গেছে কমিটি-সংক্রান্ত অভিযোগ। তারা কয়েক দফা দিয়েছে নতুন নির্দেশনা। কিন্তু তৃণমূলে এসে আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কোন্দলের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে কমিটি।

একই চিত্র আছে নগর বিএনপিতেও। তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে নগর বিএনপির রাজনীতি। তিন মাসের জন্য গঠিত কমিটি কাজ করছে তিন বছর ধরে! আওয়ামী লীগের মতো তাদেরও কমিটি নিয়ে বিচার গেছে কেন্দ্রে। কিন্তু নেতাদের এক বৃত্তে আনতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র। জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নতুন কমিটি হবে কিনা সেটি নিয়ে সন্দিহান খোদ দলের নেতারাই। অথচ উভয় দলের কমিটিতে পদ পেতে মুখিয়ে আছেন অর্ধশত তরুণ। রাজনীতির পরীক্ষায় এরা উত্তীর্ণ হলেও গ্রুপিং রাজনীতির কাছে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের গতি।

চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরে প্রথমে থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠনের জন্য সম্মেলন হবে। এরপর মহানগরের কমিটি হবে।

সম্মেলন করে নগর বিএনপির কমিটি গঠনে কাজ করছে সাত সদস্যের কমিটি। এর নেতৃত্বে থাকা দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান বলেন, নানা কারণে নগর বিএনপির কমিটি গঠন করা যাচ্ছে না। নেতাদের নামে ডজন ডজন মামলা এর অন্যতম কারণ। তারপরও নির্বাচনের আগে কমিটি গঠন করার চেষ্টা করছি আমরা।

কমিটি এলেই সামনে আসে পাঁচ প্রশ্ন

চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি গঠনের বিষয়টি সবসময়ই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য অগ্নিপরীক্ষা। কমিটি গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এলে উভয় দলের সামনে চলে আসে পাঁচটি প্রশ্ন। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের ক্ষমতা কি খর্ব হচ্ছে? ব্যারিস্টার নওফেল কি তাঁর অনুসারীদের কমিটিতে অবস্থান আরও পোক্ত করবেন? নওফেল ও নাছিরের অনুসারী হয়ে কে কোন পদ পাচ্ছেন? তাদের বাইরে গিয়ে মেয়র রেজাউলের অনুসারী হচ্ছেন কারা? প্রকৃত ত্যাগী নেতা নাকি ‌‘ভাই লীগ’ ছড়ি ঘোরাবে কমিটিতে? একই রকম প্রশ্ন ওঠে বিএনপির কমিটি নিয়েও। বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন কি তাঁর বলয় আরও শক্তিশালী করছেন? নোমান ও খসরুর অনুসারী হয়ে বিএনপির কমিটিতে কারা আসছেন? নোমান-খসরু বলয়ের বাইরে গিয়ে দলে জায়গা পাচ্ছেন কারা? তৃণমূলের ত্যাগী নেতা নাকি শাহাদাত-বক্করের প্রাধান্য থাকবে কমিটিতে? এসব প্রশ্নের উত্তর মেলাতে না পারায় চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরে নতুন কমিটি গঠন করতে পারছে না প্রধান দুই রাজনৈতিক দল।

১৮ বছর ধরে কাউন্সিল হচ্ছে না আওয়ামী লীগে

দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহানগরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামেই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হচ্ছে না। ২০০৫ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল। এতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও কাজী ইনামুল হক দানু। দানু মারা যাওয়ার পর ২০১৩ সালে কেন্দ্র থেকে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়, যাতে মহিউদ্দিনকে সভাপতি ও আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর প্রথম সহসভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু বয়সের কারণে তিনি সবসময় সক্রিয় থাকতে পারেন না। ফলে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি অনেকটাই আ জ ম নাছিরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটি করতে গিয়ে এটির প্রভাব পড়ছে বলে কেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগ করেছে নাছিরের বিরোধী গ্রুপ। বিবাদ মেটাতে কেন্দ্র একটি কমিটি গঠন করে দিয়ে তৃণমূলের কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু বিবাদের কারণে সেই নির্দেশনাও দেখেনি আলোর মুখ।

তিন মাসের কাজ বিএনপি পারেনি তিন বছরেও

বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছে ১৪ বছর আগে। ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সম্মেলন আয়োজন করা হয়। নেতাকর্মীর একাংশের বাধায় ওই সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়। পরে ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করে নগর বিএনপির ৩৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করতে নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু তারা সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই ২০২২ সালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ক্ষমতা খর্ব করা হয়। থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটি গঠনে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা কোনো ভূমিকা রাখতে পারবেন না বলে তখন নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে কমিটি গঠন ও সম্মেলনের জন্য সাত সদস্যের সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয় নতুন করে। তিন মাসের মধ্যে তৃণমূলের কমিটি গঠন এবং নগরীর সম্মেলন করতে কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয় সাত সদস্যের এই সাংগঠনিক কমিটিকে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com