এম আর কামাল. নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় কাকলী আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের শিংলাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রেখে স্বামী ও তার শ^শুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। কাকলী আক্তার ওই গ্রামের সাইফুল ইসলাম সাকিলের স্ত্রী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারী) বিকালে পারিবারিক কহল নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি কাকলী আক্তার তার বাবার বাড়িতে জানালে স্বামী সাইফুল ইসলাম সাকিল ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে প্রচন্ড মারধর করে। এক পর্যায়ে শ^শুরবাড়ির লোকজন সাকিলের পরকীয়ার কথা জানালে ভোর রাতে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। আশপাশের লোকজন চিৎকার চেচামেচি শুনতে পেয়ে ছুটে আসেন। এসে দেখেন কাকলী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এক পর্যায়ে ছটফট করতে করতে মারা যান। সে সময় কাকলীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে বারান্দায় ফেলে রেখে স্বামীসহ শ^শুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। কাকলী দুই সন্তানের জননী। সাইফুল ইসলাম শাকিল উপজেলার শিংলাবো গ্রামের গণি মিয়ার ছেলে ও কাকলী আক্তার একই উপজেলার লাভরাপাড়া গ্রামের মামুন মিয়ার মেয়ে।
নিহত কাকলীর ভগ্নিপতি ইলিয়াস মোল্লা জানান, প্রায় এক বছর ধরে কাকলীর স্বামী সাইফুল ইসলাম সাকিল পরকীয়ায় জড়ায়। এতে বাঁধা দেয়ায় অনেকবার কাকলীকে মারধর করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে একাধিকবার বিচার শালিসও হয়। শুক্রবার রাতে স্বামী সাকিল ও তার পরিবারের লোকজন কাকলীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পরকীয়ার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।













