• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

বান্দরবানের নতুন আতঙ্ক নাথান বম

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ মে, ২০২৩ ১০:১৮
আপডেট: সোমবার, ১৫ মে, ২০২৩ ১০:১৮

Capture 128

বান্দরবানের নতুন আতঙ্ক নাথান বম

বান্দরবান জুড়ে নতুন আতঙ্ক সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সভাপতি নাথান বম। তার সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে জড়িত। মূলত তিনি বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) ছত্রছায়ায় রয়েছেন। শুধু চাঁদাবাজি নয়, ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের সঙ্গেও নাথান বমের সশস্ত্র বাহিনী জড়িত। তাদের কারণে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ দুর্গম পাহাড়ে বর্তমানে জেএসএস (মূল), জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (মূল) ও ইউপিডিএফ (সংস্কার)—এই চার সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়। এই চার সংগঠনের মূল কাজ চাঁদাবাজি এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। বান্দরবানে হত্যা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির নতুন আতঙ্কের নাম নাথান বম।

স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অধীনে থাকাটা মানতে পারছে না তারা। তাদের রয়েছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। কোনো কিছু হলেই সীমান্তের ওপারে তারা আশ্রয় নেয়। খুমি, লুসাই, খেয়াং, পাংখোয়া, ম্রো—এই পাঁচ সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের নামে জেএসএসের এক শীর্ষ নেতার হাত ধরে এবং তার প্রশ্রয়ে কেএনএফ প্রতিষ্ঠা করেন নাথান বম। জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের নামে, মোটা অঙ্কের টাকা আয় করার উদ্দেশ্যে, গহিন অরণ্যে প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন। জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদানের চুক্তিও স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু সেই কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ প্রদান বেশি দিন টিকিয়ে রাখতে পারেননি। র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে সেই প্রশিক্ষণ আস্তানা তছনছ হয়ে যায়। জঙ্গি প্রশিক্ষণ ধরা পড়ার পর নাথান বমের একের পর এক অপকর্ম বেরিয়ে আসে। অবৈধ অস্ত্র পাচারের সঙ্গেও তারা জড়িত। নাথান বমরা ছিলেন দিন এনে দিনে খাওয়ার মতো পরিবার।

এদিকে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জানান, বান্দরবানে চার সন্ত্রাসী চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি এবং আধিপত্য বিস্তার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাতে নিহত হওয়ার পর একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার অংশ হিসেবে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চাঁদাবাজিদের আখড়া আর সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য। প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে সন্ত্রাসী সংগঠনের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষ ও প্রাণনাশের ঘটনা ঘটছে। তারই বাস্তব প্রমাণ হলো গত সোমবার বিকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলার রোয়াংছড়িতে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে প্রতিপক্ষ কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিন জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নিহত সন্ত্রাসীরা হলেন নেমথাং বম এবং গণলাইনে কাজ করা মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ও বাজার বা রসদ  সরবরাহকারী লাল লিয়ান ও সশস্ত্র চাঁদা কালেক্টর সিম লিয়ান। তারা সবাই বম সম্প্রদায়ভুক্ত। আর বমদের সব তরুণ প্রজন্মই কেএনএর সঙ্গে যুক্ত। পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের অপপ্রয়াসে লিপ্ত সশস্ত্র সংগ্রাম করা ‘কেএনএফের’ সঙ্গেও এদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫( লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com