ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
‘আল্লাহু চত্বর’। মহান স্রষ্টার এই নামেই দৃষ্টিনন্দন চত্বর নির্মাণ হচ্ছে ছাতকের শিল্পনগরী উপজেলার গোবিন্দগঞ্জে। যে চত্বরে বড় পিলারে আরবি ও বাংলায় লেখা হচ্ছে আল্লাহর গুণবাচক ৯৯টি নাম। নান্দনিক সৃষ্টিকর্ম মানুষের চিন্তাশীল সুন্দর সৃষ্টিশীলতার বহিঃপ্রকাশ। এসব স্থাপনার নান্দনিক রূপ দেখে ভ্রমণপিপাসু ও পথচারীদের হৃদয় জুড়ায়।
সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রথমবারের মতো নির্মিত হচ্ছে আল্লাহর ৯৯ নামের একটি সু-বিশাল পিলার। এ পিলারকে কেন্দ্র করে ওই স্থানটির নাম দেয়া হচ্ছে আল্লাহু চত্বর।
শিল্পনগরী উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দগঞ্জ-বিনন্দপুর সড়কের বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তার পাশে এটি নির্মিত হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, ২০১৭ সালে সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল তার নিজ অর্থায়নে মহান আল্লাহর গুণবাচক ৯৯ নামে দৃষ্টিনন্দন পিলারটি নির্মাণ করেন। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন সিলেটের আলোকিত মানুষগড়ার কারিগর মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানি। তিনি হচ্ছেন গোবিন্দনগর ফজলিয়া আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল।
মাটি থেকে প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট পিলারের কাজ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু করেন। দীর্ঘ এক বছর কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর গত জানুয়ারি মাসে আবারো শুরু করেন নির্মাণ কাজ। এখানে বসানো হচ্ছে পিলারের চারপাশে আল্লাহর ৯৯ নাম। পিলারের চূড়ায় দেয়া হচ্ছে গম্বুজ।
চোখ জুড়ানো পিলারটিতে মহান আল্লাহর আরবিতে ৯৯ নামগুলো দেখলেই মানুষের মনে প্রশান্তি আসে।
দৃষ্টিনন্দন পিলারটি এক নজর দেখতে সুনামগঞ্জ, সিলেট, বিশ্বনাথ, জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা, মধ্যনগর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ, মোহনগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার মানুষ দেখতে ভিড় করছেন। প্রায় সময়ই যাত্রী ও চালকরা গাড়ি থামিয়ে এটি একপলক চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন।
জানা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্মিত হচ্ছে অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন চত্বর। তিন রাস্তা মোড়ে সাধারণত এসব দৃষ্টিনন্দন চত্বর হয়ে থাকে। চত্বরগুলোর সৌন্দর্যরূপ দিতে স্থাপন করা হয় পশু-পাখি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসহ বিভিন্ন ভাস্কর্য। এতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর শোভাবর্ধন করে। কিন্তু এখানে আল্লাহর পবিত্র ৯৯ নামে পিলার স্থাপন করায় ‘আল্লাহু চত্বর’এলাকাটি সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি লাভ করেছেন। পিলারের নিচে লেখা হয় অসংখ্য মূল্যবান বাণী।
এলাকার মাওলানা আনোয়ার হোসেন দুদু, গোবিন্দনগর ফজলিয়া আলিয়া মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আব্দুল আজিজ, কবি মতিউর রহমান, কবি নগর করিম, শিক্ষক রেজ্জাদ আহমদ, আবুল কালাম আজাদ, কাওছার আল মামুন, ছায়াদুর রহমান, সিএনজি অটোরিকশাচালক ম্যানেজার শিহাব উদ্দিন, আব্দুল মগনি, সমসির আলী, মোহাম্মদ আবদুল্লাহসহ স্থানীয় শতাধিক লোকজন অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি অত্যন্ত ভালো একটি কাজ করছেন বলে উল্লেখ করে তারা বলেন, মহান আল্লাহ পাকের ৯৯টি নাম আমরা অনেকেই জানি না। সুবিশাল এ দৃষ্টিনন্দন পিলারটিতে নামগুলো লিখে দেওয়ায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা পড়তে পারবে, এতে অনেক নেকি (সাওয়াব) হবে।
এ ব্যাপারে চত্বর নির্মাণকারী অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, আল্লাহর যে ৯৯ নাম রয়েছে এগুলো পড়ে শিখার জন্য তিনি তার নিজ অর্থায়নে দৃষ্টিনন্দন ‘আল্লাহু চত্বর’নামে পিলারটি নির্মাণ করেন। ফলে এলাকার সব ধরনের অপরাধ দমন হবে। নামগুলো পড়ে শিখতে পারলে উপকৃত হবে মানুষ।













