নিউজ ডেস্ক
নীতিগত অনুমোদনের পর পড়ে থাকা আইনগুলো দ্রুত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৮ মে) নিজ কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফি করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
তিনি বলেন, বৈঠকে গত তিন মাসের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের রিপোর্ট উপস্থাপন করেছি। এতে দেখা গেছে, কয়েকটা মন্ত্রণালয়ের কিছু আইন নীতিগত অনুমোদন করা ছিল। কিন্তু সেগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আসেনি। সেগুলো দ্রুত উপস্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান সংসদের পঞ্চম বছর চলছে। যেসব সিদ্ধান্ত এই মন্ত্রিসভা থেকে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো এই সরকার থাকা অবস্থায় সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর সেগুলো সংসদে পাস হলে হবে, না হলে না হবে। কিন্তু সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করা দরকার।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ঋণ দিয়ে থাকে স্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতে। অস্থাবর যে সম্পত্তি আছে তার আওতায় ঋণ দেওয়ায় আমাদের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করে, কিন্তু তার আইনগত কোনো ভিত্তি ছিল না। সেই আইনগত ভিত্তি দিতেই আইনটি করা হচ্ছে। যে অস্থাবর সম্পত্তির বিপরীতে ঋণ নেওয়া যাবে, সেই অস্থাবর সম্পত্তি আগে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য একটি অথরিটি হবে। সেখান থেকে নিবন্ধন নিয়ে যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া যাবে।
তিনি বলেন, মূলত যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বিশেষ করে যারা আইসিটি নিয়ে ব্যবসা করেন, যাদের একটা অ্যাপস আছে, একটা সফটওয়্যার আছে কিংবা কোনো একটা বিষয়ে মেধাস্বত্ব আছে, সেগুলোকে নিবন্ধন অথরিটি থেকে বাজার দরে মূল্যায়ণ করে ব্যাংক ব্যবস্থায় এক্সেস তৈরি (ঋণ নেওয়া) হবে।
তিনি আরও জানান, মেধাস্বত্বসহ ১৬টি অস্থাবর সম্পত্তি জামানত রেখে ঋণ নেওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত স্থায়ী আমানতের সনদ, সোন-রূপা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু, যার ওজন ও বিশুদ্ধতার মান স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ দ্বারা সার্টিফাই, নিবন্ধিত কোম্পানির শেয়ার সার্টিফিকেট, মেধাস্বত্ব অধিকার দ্বারা স্বীকৃত মেধাস্বত্ব পণ্য, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক পণ্য, সফটওয়্যার বা অ্যাপস যার মূল্য প্রাক্কলন করা সম্ভব, যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধিত যান্ত্রিক বা অযান্ত্রিক যানবাহন, যথাযথ সংরক্ষিত কৃষিজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মৎস্য বা জলজ প্রাণী ও বন্যপ্রাণী, উভচর-প্রাণী ছাড়া আয়বর্ধক জীবজন্তু, সুরক্ষার স্বার্থ স্বীকৃত যেকোনো চুক্তি বন্ধক সাপেক্ষে বিক্রয় ডিবেঞ্চার, যেকোনো চাষ বা কিস্তিতে ক্রয় চুক্তি, বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এক বছরের অধিক মেয়াদি কোনো ইজারা, সড়ক পরিবহন আইন দ্বারা নিবন্ধিত কোনো মোটরযান বা জামিনদারের দখলে থাকা পণ্যের ওপর সৃষ্ট সুরক্ষা স্বার্থ, কোনো বার্ষিক ভাতা বা বিমা পলিসির অধীন সৃষ্ট কোনো স্বার্থ বা দাবি বা জামানতের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের নিশ্চয়তা হিসেবে কোনো বিমা পলিসির অধীন প্রাপ্য অর্থ।
মাহবুব হোসেন জানান, এসব বিষয় ছাড়াও মন্ত্রিসভা ‘বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি আইন ২০২৩’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। একইসঙ্গে ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) আইন ২০২৩’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মন্ত্রিসভা বৈঠকে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৬৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২৩ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক (জানুয়ারি-মার্চ) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।












