কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ছবি প্রতিনিধি
যুক্তরাজ্যে জব্দ হওয়া পাচারকৃত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেন, ‘জব্দ হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি একটি আইনি প্রক্রিয়া। এটি সম্পন্ন করতে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণের প্রয়োজন। বিষয়টি সময়সাপেক্ষও।’
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সারাহ কুক বলেন, ‘২০২৫ সালের জুন থেকে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশি ব্যক্তিদের ২৫ কোটি পাউন্ডের বেশি সম্পদ জব্দ করেছে। এটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার অখণ্ডতা এবং আইনের শাসন বজায় রাখার প্রতি যুক্তরাজ্যের দৃঢ় প্রতিজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ। তবে এই অর্থ ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে।’
তিনি বলেন, এ ধরনের আর্থিক অপরাধ দমনে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাজ্য এই গ্রীষ্মে লন্ডনে একটি ‘ইলিসিট ফিন্যান্স সামিট’ (অবৈধ অর্থায়নবিষয়ক সম্মেলন) আয়োজন করবে। সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে–এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি জাতীয় সংসদে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে। এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো বিষয় নয়।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যারা যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো সহযোগিতা দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে না।’
সারাহ কুক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য সরকারকে যুক্তরাজ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংস্কার ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহযোগিতা করছে যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদেরও প্রতিবছর মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।’ এভিয়েশন খাতে আঞ্চলিক হাব হওয়ায় বাংলাদেশের উদ্যোগকেও যুক্তরাজ্য সহযোগিতা দেবে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, এই সংঘাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত। এই সংঘাতে বাংলাদেশের পরিবহন খাত ও সাপ্লাই চেইনে ব্যাঘাত ঘটছে আমরা জানি। তবে যুক্তরাজ্য এই সংঘাত নিরসনে পর্দার আড়ালে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধপরিস্থিতি এড়াতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪৫টি দেশের সঙ্গে কথা বলেছেন।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস।












