জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি এবং এই সংগ্রাম ছিল মানুষের মালিকানা পুনরুদ্ধার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনে রাজপথে থেকে অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার লাঞ্ছিত হয়েছে, অনেকে পুলিশের হেফাজতে এবং কারাগারে চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়ে বেড়িবাঁধ ও ধানক্ষেতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের সমর্থনে আয়োজিত গণমিছিল-পূর্ব জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমির খসরু।
তিনি বলেন, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। মানুষের হাতে রাষ্ট্রের মালিকানা তুলে দেওয়ার জন্যই এই দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আমির খসরু আরও বলেন, এই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটবে ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে, যখন ভোট গণনা শেষ হবে এবং বিজয়ের সংবাদ দেশ ও বিশ্বের কাছে পৌঁছাবে। সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হবে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি এবং গণতন্ত্রের মুক্তি। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার যে শপথ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের যাত্রাও তখনই শুরু হবে। এ জন্য সবাইকে চোখ-কান খোলা রেখে নির্বাচনের দিন রাত পর্যন্ত এবং ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত জাগ্রত সৈনিকের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপির প্রতিপক্ষ শক্তি দৃশ্যমান নয়, তারা অন্যভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের নানা কৌশলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিল তৈরি, ব্যালট পেপার, বোরকা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশসহ বিভিন্ন উপায়ে ভুয়া ভোট দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এসব চক্রান্ত কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া যাবে না। যেখানে সন্দেহ দেখা যাবে বা ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, জনগণের আস্থা ছাড়া তারা রাজনীতি করতে পারবে না বলেই ভুয়া ভোটের পথে হাঁটছে।
আমির খসরু বলেন, আবু সুফিয়ান বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত সাথী। দীর্ঘ ১৩ থেকে ১৪ বছর ধরে রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে তারা বারবার কারাবরণ করেছেন, কিন্তু কোনো আপস করেননি। খালেদা জিয়া আপস করেননি, তারেক রহমান আপস করেননি, বিএনপির নেতাকর্মীরাও আপস করেননি। তাই এই নির্বাচনেও কোনো আপসের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করতে চায়, কোনো ধরনের কারচুপির মাধ্যমে নয়।
জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শুধু চট্টগ্রাম-৯ আসন নয়, সারা দেশের মানুষ আগামীর নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও জনগণের বাংলাদেশ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তারা বিজয়ের সুঘ্রাণ পাচ্ছেন। এই বিজয় হবে জনগণের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয়। এটি হবে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের বিজয়। একই সঙ্গে এটি হবে জিয়া পরিবারের সুযোগ্য উত্তরসূরি এবং দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক তারেক রহমানের বিজয়।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের চিফ কো-অর্ডিনেটর ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ সামশুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ সবুর।












