ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
সংগৃহীত ছবি
এই নির্বাচন গণতন্ত্রে ফেরার একটি গেটওয়ে ,নির্বাচন সুস্থ হলে রাষ্ট্রব্যবস্থা, সমাজ ও রাজনীতিতে আবার গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যে লড়াই চলছে, এই নির্বাচন তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।’
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকি। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল, নির্বাচন ঠিকঠাক হবে কিনা। তবে এখন পর্যন্ত এবারের নির্বাচনের পরিবেশ তিনি ভালো বলেই দেখছেন। শুরুতে কিছু ঘটনা ঘটলেও পরে সবাই সংযত হয়েছে এবং বর্তমানে নির্বাচন অনুকূল পরিবেশেই হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নানা ইস্যু নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, বিশেষ করে মিডিয়াতে। বিএনপিও তাদের কাজ করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের সফর বিএনপির রাজনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে এবং এটি ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।’
নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই নির্বাচন একটি গেটওয়ে। এই গেটওয়ে পার হতে পারলে গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে। সে কারণেই এই নির্বাচনের ওপর তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।’
সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো সতর্কতার সঙ্গে এবং নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখে নির্বাচন করার চেষ্টা করেছে।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নির্বাচন ভালো হবে। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নির্বাচনে কারচুপির অভিজ্ঞতার কারণে মানুষের মনে এখনো উদ্বেগ কাজ করে এমন কথাও বলেন তিনি।’
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান চেক অ্যান্ড কাউন্টার ব্যালেন্স এমনভাবে রয়েছে যে তথাকথিত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সম্ভাবনা তিনি খুব বেশি দেখছেন না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।’
নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফলাফল যাই হোক বিএনপি তা স্বাগত জানাবে। অতীতেও বিএনপি কোনো নির্বাচনের ফলাফল কখনো নাকচ করেনি।’
নতুন দল ও জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন দল আত্মপ্রকাশ করলে তাদের আওয়াজ বেশি হয়। জামায়াত একটি কৌশলী দল এবং তারা বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তবে মানুষের ওপর আস্থা রাখতে হবে তারা ভোটের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ রাতারাতি স্বর্গ হয়ে যাবে না। তারপরও সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভোট দেওয়া মানুষের অধিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন।’
বিএনপি প্রতিপক্ষকে সবল মনে করেই নির্বাচন করছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলটি অত্যন্ত আশাবাদী এবং ভূমিধ্বস বিজয়ের প্রত্যাশা করছে।’













