জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ১৮ বছর আন্দোলন করে দেশে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা অর্থবহ করতে না পারলে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে গণতন্ত্র রক্ষাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তন এলেও বর্তমানে মাদক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে ‘শিক্ষা বিস্তারে অন্তরায় মাদক ও আওয়ামী দোসরের গভীর ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাদকবিরোধী অবস্থান নির্ধারণ করা।
সরাসরি সত্য কথা বলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “বিগত সরকার ছিল ফ্যাসিস্ট ও শতভাগ গণবিরোধী একটি সরকার এবং তার প্রধান ছিলেন হাসিনা। সেই সময়ও মাদক ছিল, এখনো আছে।”
নিজের এলাকার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি যে গলির মধ্যে থাকি, সেখানে মাদকের বিস্তার এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, সেখানে এখন চলাফেরা করাই কঠিন। কিছু বলাও যাচ্ছে না।” স্থানীয় প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থানের অঙ্গীকার করলেও ছোট গলির এই ভয়াবহ চিত্র যদি সারা দেশের হয়ে থাকে, তবে দেশ একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
মাদক শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, আন্দোলন ও পরিবর্তনসহ সব অর্জন ধ্বংস করে দিতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ-তরুণীদের মাদক থেকে কীভাবে মুক্ত করা যায়, সেই উদ্যোগ নিতে হবে। মাদকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ও বিত্তবান হওয়ায় তারা যেকোনো কিছুকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, জনাব তারেক রহমান নতুন দেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হলে যেকোনো শর্তে, যেকোনো মূল্যে এবং যেকোনোভাবে তাঁর পাশে দাঁড়াতে হবে ও তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তা না হলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। মাদকের পাশাপাশি আরেকটি ফ্যাসিস্ট শক্তিও দেশ যেন সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে না পারে, সেই চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ১৮ বছর আন্দোলন করে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তাকে অর্থবহ করতে না পারলে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে না পারলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই মুহূর্তে গণতন্ত্র রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মহলবিশেষ এই দেশকে ধ্বংস করতে চায় এবং পার্শ্ববর্তী দেশও এখানে বসে আছে। সম্প্রতি সংবাদে দেখা যাচ্ছে, কারা শহীদ জিয়ার হত্যাকারীদের জায়গা দিয়েছিল। এই অবস্থায় সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বর্তমান সরকার এবং তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার তাগিদ দেন।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে এবং সমন্বয়ক ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, পিরোজপুর জেলা প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আ খ ম মোজ্জাম্মেল হক, জিয়া নাগরিক সংসদের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. আনিসুল আউয়ালসহ প্রমুখ।












