• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

ধানমন্ডিতে নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:১০
আপডেট: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:১০

 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
ঢাকা: নেপাল ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির গ্রীণ গার্ডেনের রুফটপে নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও বাড়ানোর বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশিতা।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের সাবেক সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী আনন্দ প্রসাদ পোখরেল। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. জয়রাম ওয়াগলে, শিক্ষাবিদ মিস সুদা সত্যল এবং বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক মজনু। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আর কে রিপন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তমা রশিদ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নেপাল ও বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক যোগাযোগও এ সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। ১৯৭২ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমাগত বিকশিত হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতারও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা চুক্তি ১৯৭৮ সালে স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য, ট্রানজিট, বেসামরিক বিমান চলাচল ও কারিগরি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, নেপালের পাহাড়, হিমালয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেমন বাংলাদেশের মানুষের জন্য আকর্ষণীয়, তেমনি বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন এবং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলো নেপালের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও যোগাযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের পারস্পরিক পরিচিতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দুই দেশের পর্যটন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে।
শিক্ষা খাতেও দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ রয়েছে। নেপালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেপালি শিক্ষার্থী বিশেষ করে চিকিৎসা ও প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে আসছেন; একইভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও নেপালে বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নেপালের সাবেক সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী আনন্দ প্রসাদ পোখরেল দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বর্তমান বিশ্বে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের পাশাপাশি জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা ও পর্যটন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর করে তোলে। এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও নেপাল একই প্ল্যাটফর্মে কাজ করছে। BIMSTEC-এর অধীনে পর্যটন, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ‘People-to-People Contact’ খাতের অন্তর্ভুক্ত এবং নেপাল বর্তমানে এ খাতের নেতৃত্বদানকারী দেশ।
আলোচনা সভা শেষে নেপাল ও বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য, সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ধারাকে তুলে ধরে একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই দেশের সংস্কৃতির নানা দিক উপস্থাপিত হয় এবং উপস্থিত অতিথিরা তা উপভোগ করেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার ভিত্তিতে নেপাল-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম