শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
অতিসম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি হুতিদের ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। একাধিক বাংলাদেশিও হতাহতের শিকার হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে দেশটিতে। স্বাভাবিকভাবেই উদ্ভূত পরিস্থিতি বাংলাদেশের প্রবাসীকর্মীদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা বাহুল্য, এ উদ্বেগ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যেও।
এরই মধ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে সৌদিমুখী ৬১টি ফ্লাইট হয়েছে বাতিল ও স্থগিত। এতে আটকা পড়েছেন প্রায় সাড়ে আট হাজার প্রবাসী শ্রমিক। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে চাকরি হারানোর চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। আবার কারও ‘আকামা’ বা কাজের অনুমতি নবায়নের সময় ঘনিয়ে এসেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসব প্রবাসীর অপেক্ষা, উদ্বেগ ও দুর্ভোগের দৃশ্য সত্যিকারই হতাশার।
মনে রাখতে হবে, এ পরিস্থিতি শুধু হাজার হাজার ব্যক্তি বা পরিবারের সংকট নয়। এটি আমাদের প্রবাসী আয় ও সার্বিক অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে জরুরি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন। যাতে করে ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাদের ভিসার মেয়াদ পার হচ্ছে বা কাজের যোগদানের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, তাদের মেয়াদ বিশেষ বিবেচনায় বাড়ানো হয় এবং কারও চাকরি বাতিল না হয়। এ ছাড়া বিমানবন্দরে অবস্থানরত ও দুর্ভোগে পড়া যাত্রীদের সাময়িক আবাসন, খাদ্য এবং সঠিক তথ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। কোন ফ্লাইট কবে নাগাদ চালু হতে পারে বা টিকিটের কী পুনর্বিন্যাস হবে, সে বিষয়ে যাত্রীদের সুস্পষ্ট তথ্য প্রদানের বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। তাদের যেন বিভ্রান্ত হতে না হয়। পাশাপাশি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ বা অতিরিক্ত ফ্লাইটের মাধ্যমে প্রবাসীদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অগ্রাধিকার দিয়ে কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করা দরকার।
আমরা জানি, প্রবাসী কর্মীরা আমাদের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে তাদের অবদান বিশাল। ফলে তাদের সংকটকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তারা যেন কোনোপ্রকার প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি না হন, সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ প্রয়োজন। যদিও তাদের এ ভোগান্তি একটি আকস্মিক আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সংকটের কারণে। এসত্ত্বেও হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ যেন নষ্ট না হয়, সেদিকটা বিবেচনা জরুরি।
আমরা মনে করি, সৌদির বিমানবন্দরে ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে প্রবাসীকর্মীদের পাশে সর্বাত্মকভাবে দাঁড়ানো সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো গুরুদায়িত্ব। বিষয়টিকে এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সূচির সমস্যা হিসেবে না দেখে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কেননা প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের অর্থনীতি।













