• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনীতি

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের আইনাঙ্গনের এক ঐতিহাসিক নাম

প্রকাশ: সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫ ১১:২২
আপডেট: সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫ ১১:২২

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের আইনাঙ্গনের এক ঐতিহাসিক নাম

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

‘ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের আইনাঙ্গনের এক ঐতিহাসিক নাম’ বলে মন্তব্য করে আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মো: জিয়াউল করিম বলেছেন, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক আইনিসেবা দিয়ে মানুষের সহযোগিতা করেছেন। সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দিয়ে আইনাঙ্গনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন জাতি তা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, ‘আজ যখন তাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, সেই সময় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। তার জীবন ও কর্ম থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি বাংলাদেশের আইনাঙ্গনের এক ঐতিহাসিক নাম।’

সোমবার (১৯ মে) বিকেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের শফিউর রহমান মিলনায়তনে বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিল আয়োজিত মরহুম ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার। লইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিচারপতি ড. মো: আবু তারিক ও বিচারপতি এমদাদুল হক আজাদ।

এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের দু’ ছেলে ব্যারিস্টার ইমরান ও ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট মো: শিশির মনির, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন মিঠু, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খন্দকার, অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, অ্যাডভোকেট মো: মুহাম্মাদ হোসেন লিপু ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

আলোচকরা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের আইনাঙ্গনে বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, ‘তিনি পেশাগত জীবনে কখনো অনৈতিক ও মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করেননি। অত্যন্ত সততা, যুক্তি ও রেফারেন্স দিয়ে তিনি বিচারপতিদের সহযোগিতা করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নির্লোভ ব্যক্তি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি কখনো নৈতিকতার সাথে আপস করেননি।’

তার দু’ ছেলে বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী বলেন, ‘তিনি ২৬ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন করার পর এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনি লড়াইয়ের জন্য কোর্টে উপস্থিত হয়েছিলেন। মামলার দ্রুত শুনানির জন্য তিনি কোর্টে মেনশন করেছিলেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি মামলার আর্গুমেন্ট ও ঘটনার ওপর ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তিনি নিজ হাতে মামলার গ্রাউন্ডস-এর ওপর নোট তৈরি করেন। আপিল বিভাগে এ মামলার শুনানির এক দিন আগেই তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন।’ এ সময় ব্যারিস্টার এহসান তার বাবার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দেশবাসীর দোয়া চান।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের স্মরণে দোয়া ও ও আলোচনা সভায় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি