• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

যৌতুকের বলি গৃবধূ শাহিনা বেগম এর ঘাতক স্বামীসহ খুনিরা ১ সপ্তাহে ও গ্রেফতার হয়নি

প্রকাশ: সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ৩:০৩
আপডেট: সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ৩:০৩

963

যৌতুকের বলি গৃবধূ শাহিনা বেগম এর ঘাতক স্বামীসহ খুনিরা ১ সপ্তাহে ও গ্রেফতার হয়নি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের (মাঝেরচর)দক্ষিন কোদালপুরে যৌতুকের বলি হয়েছেন ১ সন্তানের জননী শাহিনা বেগম নামের এক গৃহবধূ। গত ১ সপ্তাহে ও গ্রেপতার হয়নি ঘাতক স্বামী ও অন্যান্য আসামীরা। নিহতের পরিবার হতাশাগ্রস্থ।নিহতের পরিবার খুনিদের ফাসি চায়।পুলিশ বলছে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে। খুব শীঘ্রই গ্রেফতার সম্ভব হবে।
সরেজমিন মাঝেরচর দক্ষিন কোদালপুর ঘুরে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য এবং মামলার বিবরনে জানাগেছে,৩বছর পূর্বে চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার মধ্যচর মোল্যাকান্দি এলাকার সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী জান্নাল পাজরির কণ্যা শাহিনা বেগম (২২)এর সহিত ইসলামের রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে হয় গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের দঃ কোদালপুর মধ্যচর গাজি কান্দি গ্রামের সাজু গাজির ছেলে হেলাল গাজির । এ ঘরে তাদের দেড় বছরের একটি পূত্র সন্তান রয়েছে । নাম তার তাকরিম। দাম্পত্য জীবনে শুরুথেকেই হেলাল গাজি তার স্ত্রী শাহিনাকে যৌতুকের জন্য জ¦ালা যন্ত্রনা করে আসছেন বলে মেয়ের পরিবারের অভিযোগ। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বাবা জান্নাল পাজরি মেয়ের জামাইকে স্থানী মিয়ারহাট নামক স্থানে প্রায় ৪/৫ লাখ টাকা ব্যয় করে সার ও কীট নাশকের একটি দোকান করে দেয়। কিছুদিন ভাল ভাবেই চলে সংসার । এর মাঝ খানে গত বছর সরকার ঐ এলাকায় একটি আশ্রয়ন প্রকল্প গড়ে তোলে। সেখানে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ৫০টি ঘরের মধ্য থেকে ৪৭নং ঘরটি হেলাল গাজির নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। আর ঐ আশ্রয়ন প্রকল্পের ১নং ঘর খানা বরাদ্দ দেয়া হয় সুরুজ মৃধা নামের অন্য এক প্রতিবেশীর নামে। বিয়ের পর থেকেই হেলাল গাজির মনে অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। তাই সে তার নামের বরাদ্দকৃত ৪৭ নং ঘরে বসবাস না করে সুরুজ মৃধার সাথে যোগসাজসে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সুরুজ মৃধার নামের ১নং ঘরে স্ত্রী ও শিশু সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছে হেলাল । সেখানে ৫০টি নির্মিত ঘরের মধ্যে মাত্র ৬/৭টি ঘরে লোকজন বসবাস করে থাকে। বাকি ঘরগুলো এখনো ফাকা রয়েছে। বিশাল চরাঞ্চলের এ ফাকা জায়গায় তারা রাতের বেলায় ঘুমিয়ে পড়লে একজন অন্যজনের কোন খোজখবর ও জানতে বা বলতে পারেনা। এরই মধ্যে হেলাল গাজি ঘটনার মাত্র ১ সপ্তাহ বা ১০দিন পূর্বে স্ত্রী শাহিনাকে আরো ২ লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ দেয়। শাহিনা তার বাবা মায়ের কাছে বিষয়টি জানালে তারা টাকা দিতে অপারগতা স্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হেলাল গাজি স্ত্রী শাহিনাকে শারিরীক ও মানসিক জ¦ালা যন্ত্রনা করত্ ো। মাঝে মধ্যে মারপিট করে বেহুশ করে ফেলতো। ঘটনার ২/৩ দিন পুর্বে মারপিট করে স্ত্রী শাহিনার বাম হাতটি ভেঙ্গে ফেলে। এরপর ও সে স্বামীর ঘর ছেড়ে যায়। গত ৮ ফেব্রæয়ারী দিবাগত রাতে হেলাল গাজি তার সহযোগী লিটন গাজি ও ১নং ঘরের মূল মালিক সুরুজ মৃধা ও অন্যান সহযোগিদের সহায়তায় স্ত্রী শাহিনাকে হাত বেধে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও ফুলা জখম করে করেছে। পাষন্ড স্বামী হেলাল গাজিী নিজের স্ত্রীর গোপনাঙ্গ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তার গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। মারপিটের চোটে শাহিনা মারাগেলে নিথর দেহটা ঐ ঘরের পিছনের বরান্দায় ফেলে রেখে ছোট কোলের শিশুটা নিয়ে ঘাতকেরা জানালার গ্রীল ভেঙ্গে বাহিরে পাািলয়ে যায় এবং পাশর্^বতী এক বাড়িতে শিশুটিকে রেখে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পরদিন ৯ ফেব্রæয়ারী সকাল টায় নিহতের বাবা কে ঐ আশ্রয়ন প্রকল্পের লোকজন খবর দিলে সে গোসাইরহাট থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। এ ঘটনায় গত ১০ ফেব্রæয়ারী নিহতের বাবা জান্নাল পাজরি ৫জনের নাম উল্লেখ সহ আরা ৩জন অজ্ঞাত আসামী করে গোসাইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ৬দিনে ও পুলিশ ঘাতক স্বামী সহ অন্যান্য খুনিদের কাউকেই গ্রেফতার করেতে পারেনি। এ নিয়ে নিহতের পরিবারের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা খুনিদের ফাসি চান।
প্রত্যক্ষদর্মী হাইমচর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডেও মেম্বার বকুল বেগম ও সেলিনা বেগম বলেন, ঘটনার পর পুলিশের নির্দেশে আমরা সুরত হালের জন্য শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ চেক কওে দেখি সারা শরীরে দাগ ও গোপন ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
চাচা কবির হোসেন বলেন,আমার ভাতিজিকে য়ৌতুকের জন্য নির্মম ও নিষ্ঠুর ভাবে তার স্বামী ও তার সহযোগীরা খুন কওে পালিয়ে গেছে। আমরা খুনিদেও ফাসি চাই।
মা শিল্পী বেগম বলেন, াামার মেওে সুখের জন্য ৫ লাখ টাকা দিয়ে দোকান কওে দিয়েছি। আরো ২ লাখ টাকা চায়। দিতে পারিনি বলে আমার মেয়েকে তার স্বামী ও খুনিরা হত্যা কওেছে। আমরা খুনিদেও ফাসি চাই।
হাইমচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রতন মাঝি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা এসে পুলিশের সহায়তায় ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে ঘওে ঢুকে দেখি পিছনের বারান্দায় শাহিনার রক্তাক্ত নিথরদেহ পরে আছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিটের চিহ্ন ছিল। এটা একটা নির্মম ও নিষ্ঠুর হত্যা কান্ড। এদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
বাবাদী নিহতের বাবা জান্নাল পাজরি বলেন,াামার মেয়ের ঘাতক স্বামী ও অন্যান্য খুনিদেও ফাসি চাই।
তদন্তকারী কর্মকর্তা গোসাইরহাট থানার ওসি(তদন্ত) ওবায়দুল্লাহ বলেন,এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে। খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করতে পারবো বলে আশা করছি।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com