• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

শিল্প ও সাহিত্য

‘মানি হাইস্ট’–এর পর বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে নতুন ব্যাংক ডাকাতির গল্প

প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০২
আপডেট: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০২

‘মানি হাইস্ট’–এর পর বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে নতুন ব্যাংক ডাকাতির গল্প
 

ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা, একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা, বিশ্বাসঘাতকতা আর বেঁচে থাকার লড়াই—সব মিলিয়ে টান টান উত্তেজনার গল্প ‘কলিশন কোর্স’। গত ৩০ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তির পরপরই দর্শকদের নজর কেড়েছে স্প্যানিশ ভাষার এই ক্রাইম থ্রিলার। মুক্তির পরদিনই বিভিন্ন দেশের নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিনেমার তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে নেয় ছবিটি। যুক্তরাষ্ট্রেও ১ নভেম্বর নেটফ্লিক্সের দৈনিক সর্বাধিক দেখা সিনেমার তালিকায় উঠে আসে এক নম্বরে।

‘কলিশন কোর্স’-এর গল্পের পটভূমি ২০১৩ সালের মাদ্রিদ। স্পেন তখন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একদল অপরাধী একটি ব্যাংকে ডাকাতি করে। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোয় না। ডাকাতির পরই ঘটতে থাকে একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে অপরাধীরা জড়িয়ে পড়ে আরও জটিল পরিস্থিতিতে। দলের সদস্যদের মধ্যেও বাড়তে থাকে সন্দেহ ও অবিশ্বাস। সামনে আসতে থাকে পুরোনো মিথ্যা, গোপন তথ্য ও বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা। ফলে শুধু পুলিশের হাত থেকে পালানো নয়, নিজেদের মধ্যকার বিপদ সামলানোও হয়ে ওঠে তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

নেটফ্লিক্সের বর্ণনা অনুযায়ী, ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এখানে কোনো চরিত্রকেই পুরোপুরি চেনা যায় না। কে সত্য বলছে, কে নিজের স্বার্থে অন্যকে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল।

‘কলিশন কোর্স’-এর অন্যতম আকর্ষণ এর অভিনয়শিল্পীরা। স্পেনের জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ কয়েকজন অভিনেতাকে নিয়ে সাজানো হয়েছে ছবির চরিত্রগুলো। প্রত্যেকেই গল্পের রহস্য, উত্তেজনা ও নাটকীয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

স্পেনের পরিচিত অভিনেত্রী লাইয়া কোস্তা অভিনয় করেছেন কার্লা চরিত্রে। ‘ভিক্টোরিয়া’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান তিনি। জার্মানির এই সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘ফুডি লাভ’ ও ‘আনিমাল’-এর মতো কাজেও দেখা গেছে তাঁকে। ‘কলিশন কোর্স’-এও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন তিনি।

পেদ্রো চরিত্রে অভিনয় করেছেন কারা এলেখালদে। স্পেনের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন–জগতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ‘স্প্যানিশ অ্যাফেয়ার’ ও ‘সেল ২১১’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন। চরিত্রের গভীরতা ও অভিনয়ের বৈচিত্র্যের জন্যও প্রশংসিত এই অভিনেতা।

এরনেস্তো চরিত্রে রয়েছেন লুইস সাহেরা। স্পেনের অন্যতম পরিচিত চরিত্রাভিনেতা তিনি। ‘দ্য কিংডম’ ও ‘দ্য বিস্টস’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে ‘দ্য বিস্টস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০২৩ সালে গোয়া পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার স্বীকৃতি পান।

তোমাস চরিত্রে অভিনয় করেছেন তামার নোভাস। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। ‘দ্য সি ইনসাইড’ সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান। সিনেমাটি ২০০৫ সালে অস্কারে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছিল। পরবর্তী সময়ে স্পেনের বিভিন্ন সিনেমা ও সিরিজে কাজ করেছেন তিনি।

রাউল চরিত্রে দেখা গেছে আলভারো সেরভান্তেসকে। ‘থ্রি মিটারস অ্যাবাভ দ্য স্কাই’, ‘অ্যাডু’ ও ‘দ্য টাইম ইট টেকস’-এর মতো কাজে অভিনয় করেছেন তিনি। স্পেনের তরুণ প্রজন্মের পরিচিত অভিনেতাদের একজন আলভারো।

লুইস চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুইস ওমার। কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে স্পেনের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। পেদ্রো আলমোদোভার পরিচালিত ‘ব্রোকেন এমব্রেসেস’ সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও পরিচিতি পান। তাঁর দীর্ঘ অভিনয় অভিজ্ঞতা ছবির চরিত্র বিন্যাসে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন স্পেনের নির্মাতা ড্যানিয়েল সানচেজ আরেভালো। ‘ডার্ক ব্লু অলমোস্ট ব্ল্যাক’, ‘সেভেনটিন’ ও ‘কাজিনহুড’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত এই নির্মাতার প্রথম থ্রিলার এটি।

চিত্রনাট্য লিখেছেন ড্যানিয়েল সানচেজ আরেভালো ও রামন কাম্পোস। প্রযোজনা করেছে বাম্বু প্রোদুকসিওনেস। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ‘দ্য অ্যাসুনতা কেস’, ‘কোকেন কোস্ট’ ও ‘কেবল গার্লস’-এর মতো কাজ করেছে।

পরিচালকের ভাষ্য, নতুন ধরনের গল্প বলার আগ্রহ থেকেই তিনি থ্রিলার নির্মাণে যুক্ত হয়েছেন। দর্শককে অ্যাকশন, সাসপেন্স, রহস্য ও নানা অপ্রত্যাশিত মোড়ের অভিজ্ঞতা দেওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য।

ছবিটির দ্রুত জনপ্রিয়তার পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমত, গল্পের রহস্য। ব্যাংক ডাকাতির মতো পরিচিত বিষয়কে কেন্দ্র করে গল্প এগোলেও নির্মাতারা শুধু অপরাধের ঘটনাতেই আটকে থাকেননি। বরং চরিত্রগুলোর গোপন উদ্দেশ্য, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও বিশ্বাসঘাতকতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, টান টান উত্তেজনা। ডাকাতির পর কী ঘটবে, কার ওপর বিশ্বাস করা যাবে, শেষ পর্যন্ত কারা বাঁচবে—এমন প্রশ্ন দর্শককে গল্পের সঙ্গে যুক্ত রাখে।

তৃতীয়ত, অভিনয়শিল্পীদের অভিজ্ঞতা। স্পেনের পরিচিত কয়েকজন অভিনয়শিল্পীকে একসঙ্গে পাওয়াও ছবিটির বড় আকর্ষণ। বিশেষ করে লাইয়া কোস্তা, লুইস সাহেরা ও কারা এলেখালদের উপস্থিতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

চতুর্থত, নেটফ্লিক্সের আন্তর্জাতিক দর্শক। স্প্যানিশ ভাষার ‘মানি হেইস্ট’-এর মতো সিরিজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হওয়ার পর এ ভাষার অপরাধ ও রহস্যনির্ভর গল্পের প্রতি আন্তর্জাতিক দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ‘কলিশন কোর্স’ও সেই দর্শকগোষ্ঠীর নজর পেয়েছে।

দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেললেও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি এক রকম নয়। স্পেনের কয়েকটি চলচ্চিত্রবিষয়ক প্রকাশনায় ছবিটির চিত্রনাট্য, গল্পের গতি ও উত্তেজনা তৈরির কৌশলের প্রশংসা করা হয়েছে। তবে শেষ অংশের দুর্বলতা এবং চরিত্রগুলোর গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ছবিটি সবার কাছে সমানভাবে প্রশংসিত না হলেও রহস্য ও অপরাধনির্ভর গল্পের দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করতে পেরেছে।

স্ক্রিনর‍্যান্ট, নেটফ্লিক্সডটকম ও আইএমডিবি অবলম্বনে

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম