• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

সারাদেশ

চাকরি না পেয়ে ৬০% স্নাতক ডিগ্রিধারী অন্য কাজ করছেন

প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১০
আপডেট: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১০

চাকরি না পেয়ে ৬০% স্নাতক ডিগ্রিধারী অন্য কাজ করছেন
 

‘চাকরি না পেয়ে ৬০% স্নাতক ডিগ্রিধারী অন্য কাজ করছেন’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের কর্মক্ষম মানুষের ৮৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। এ সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ। স্নাতক বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশের বেশি চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব কাজে তাঁদের আয় আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের আয়ের তুলনায় ৪৫ থেকে ৮৪ শতাংশ কম।

বিশ্বব্যাংকের করা ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের রিজিওনাল প্র্যাকটিস ডিরেক্টর জেম মেতে, সংস্থাটির এশিয়ার অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকা লিজেলোটে ওনসর্গ এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল মার্টিন।বাংলাদেশ সংবাদ

বিশ্বব্যাংক বলছে, অনানুষ্ঠানিক খাতে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের চাকরির নিয়োগপত্র থাকে না। ফলে তাঁদের আইনি সুরক্ষা থাকে না বললেই চলে। অনানুষ্ঠানিক খাতে নির্ধারিত কোনো মজুরিকাঠামোও নেই। ফলে তাঁদের আয়ও কম। এ ছাড়া অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধির গতিও কম। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এ হার অর্ধেক।

আরও পড়ুন:
ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে ব্যারিস্টার ফুয়াদের ১ মাসের সময় আবেদন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে ২০৪৫ সালে। এরপর কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হার কমতে শুরু করবে। তার বিপরীতে বাড়বে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। তাই জনমিতির সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশের হাতে সময় আর বেশি নেই। অথচ কর্মসংস্থান তৈরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখনো দুর্বল। ফলে ধনী হওয়ার আগেই বয়স্ক সমাজে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ।মানচিত্র দেখুন

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ বলছে, অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ছোট উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন। ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, বিকল্প বা নিয়মিত চাকরি না পেয়ে তাঁরা এ ধরনের উদ্যোগ শুরু করেছেন।

জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষম মানুষের ওপর নির্ভরশীল মানুষের চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার চাহিদাও বাড়বে। কিন্তু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি এখনো দুর্বল।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার মাত্র ৩৬ শতাংশ। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এটি সর্বনিম্ন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় এ হার গড়ে ৬২ শতাংশ। জনসংখ্যা বয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। কিন্তু এ খাতে বাংলাদেশের ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়ের মাত্র ২ শতাংশ পায় দরিদ্র শিশুরা। প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষার অবস্থাও দুর্বল।মানচিত্র দেখুন

বাংলাদেশে সরকারি বয়স্ক ভাতা মাসে মাত্র ৫০০ টাকা। মূল্যস্ফীতির কারণে এ ভাতা দারিদ্র্যসীমার তুলনায় অনেক কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের চেয়ে শ্রমের জোগান ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের সবার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব না-ও হতে পারে। এ কারণে আগামী দুই দশককে জনমিতিক সুযোগ কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ বিষয়ে একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ এবং বিশ্বব্যাংকের রিজিওনাল প্র্যাকটিস ডিরেক্টর জেম মেতে।

এ সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জনমিতির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সরকার পুরো জীবনচক্রভিত্তিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্য কর্মসূচিগুলো আমরা বিস্তৃত করছি। আমাদের লক্ষ্য, তরুণ প্রজন্ম যেন স্বাস্থ্যবান ও দক্ষ হয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ৪ কোটিতে পৌঁছে যাবে। এ বিশাল জনসংখ্যার জন্য একটি নতুন পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাদের জন্য একটি বার্ধক্যজনিত স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলাও সরকারের লক্ষ্য। এ ছাড়া তরুণদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। না হলে জনমিতির সুবিধা নেওয়া সম্ভব হবে না।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অনানুষ্ঠানিক খাতকে আমাদের নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। প্রচলিত ধারণায় অনানুষ্ঠানিক খাতকে অনুন্নত মনে করা হয়। আমার মতে, এটিকে ভেঙে দেখা দরকার। তা না হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগগুলো কোথায় তৈরি হচ্ছে এবং সেগুলোকে কীভাবে এগিয়ে নিতে হবে, তা আমরা বুঝতে পারব না।’

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পোশাকশিল্পে উৎপাদন ক্ষতি দেড় হাজার কোটি টাকা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানায় হামলা-ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে পিছলে যাচ্ছে পোশাকশিল্প। বারবার এমন পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিকবাজারে বাংলাদেশের ইমেজ ক্রমাগত ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বাড়ছে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকি। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নতুন ক্রয়াদেশ, রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে। শুধু গত ৩ দিনে পোশাক খাতে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৫৫৯ কোটি টাকার।মানচিত্র দেখুন

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলো যখন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে, তখন দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। চলমান অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে শুধু তাৎক্ষণিক উৎপাদন ক্ষতিই নয়, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের বাজার অন্য দেশের দখলে চলে যেতে পারে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অস্থিরতার প্রভাব এখন কারখানার সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সিদ্ধান্তেও পড়তে শুরু করেছে। বিদেশি ক্রেতারা উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের সময়সূচি জানতে চাইছেন। কোনো কোনো ক্রেতা আগামী ২ মাসের ক্রয়াদেশ কমানোর চিন্তা করছেন। এমনকি বাংলাদেশের কিছু ক্রয়াদেশ ভারত, পাকিস্তানসহ প্রতিযোগী দেশগুলোতে চলে যাওয়ার তথ্যও জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে এক দিনের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অর্থ শুধু ওই দিনের পণ্য উৎপাদন না হওয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কাঁচামাল, শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ-গ্যাস, ব্যাংক ঋণের সুদ, জাহাজীকরণ এবং ক্রেতার নির্ধারিত সময়সীমা। উৎপাদন পিছিয়ে গেলে পরবর্তী ক্রয়াদেশের কাজও বাধাগ্রস্ত হয়। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারলে বাড়তি খরচে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হয়। অন্যথায় ক্রেতার কাছ থেকে মূল্যছাড় বা ক্রয়াদেশ বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হয়। একবার কোনো ক্রেতা অন্য দেশে উৎপাদন সরিয়ে নিলে তাকে আবার বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। বিশ্বের তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশ এককভাবে ব্যবসা করছে না। ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও ক্রেতা আকর্ষণে প্রতিযোগিতা করছে। বিশেষ করে উৎপাদন ব্যয়, সরবরাহের সক্ষমতা এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে বারবার উৎপাদন বন্ধ, সড়ক অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যায়। ক্রেতারা শুধু পণ্যের দাম বিবেচনা করেন না, নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাওয়া যাবে কিনা, কারখানার উৎপাদন অব্যাহত থাকবে কিনা এবং শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে কিনা, তাও বিবেচনায় নেন।মানচিত্র দেখুন

বিজিএমইএর তথ্যমতে, ১ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে পোশাক খাতে রপ্তানি মূল্য বাবদ আনুমানিক ৮৫৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ৪৬১টি কারখানা বন্ধ থাকার কারণে এ ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে। আর বিকেএমইএ বলছে, গত ৩ দিনে আনুমানিক ৭০০ কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে।

বাংলাদেশ নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই। এখন শ্রমিক আন্দোলনের নামে শুধু নৈরাজ্য-তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। দেশের সম্পদের ক্ষতি করা হচ্ছে। সাধারণ শ্রমিকরা এর সঙ্গে জড়িত নন। একটা কথা শ্রমিকদের মনে রাখতে হবে-শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, শিল্প না বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে না। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন পরপর এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প বন্ধ হতে বাধ্য। মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিদেশি ক্রেতারা তাদের উদ্বেগ জানিয়েছেন। অর্ডার স্থানান্তরের আলোচনাও চলছে। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত ৩ দিনের আন্দোলনে নিট গার্মেন্টসের আনুমানিক ৭০০ কোটি টাকার মতো উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন ক্ষতি হয়তো পুষিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু দেশের ইমেজ সংকটের দায় কে নেবে?

কালের কণ্ঠ

‘কর্মক্ষম মানুষের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জনসংখ্যার বয়স কাঠামোর পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দেশে এখনো কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত তুলনামূলক বেশি।

এই জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব। কর্মক্ষম বিশাল জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও ধীরগতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রম খাতে নারীদের কম অংশগ্রহণ এবং দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনুকূল জনমিতির সুবিধা নিতে পারছে না বাংলাদেশ। এতে উচ্চ উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠী।

২০৪৫ সালে দেশের কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে। এরপর ২০৫১ সালে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের হার ১৪ শতাংশে উন্নীত হবে। অর্থাৎ কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের হাতে এখনো প্রায় দুই দশক সময় রয়েছে।মানচিত্র দেখুন

বিশ্বব্যাংকের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অংশগ্রহণ এবং প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৪৫ সালে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যার অনুপাত সর্বোচ্চ হবে। ফলে এই ডেমোগ্রাফিক ট্রানজিশন বা জনমিতিক পরিবর্তনের সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে বাংলাদেশ সময় পাবে প্রায় দুই দশক। কিন্তু যথেষ্ট কর্মসংস্থান তৈরি, শ্রমিকদের বাজার উপযোগী দক্ষতায় তৈরি করা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য জরুরি সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনো অনুকূল জনসংখ্যা বিন্যাসকে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার বৃদ্ধিতে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৪ শতাংশ বা আনুমানিক পাঁচ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। এমনকি স্নাতক বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশের বেশি চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব কাজে তাঁদের আয় আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের তুলনায় ৪৫ থেকে ৮৪ শতাংশ কম।

একদিকে আনুষ্ঠানিক খাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে কর্মসংস্থান তৈরি করছে, অন্যদিকে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে শ্রমিকসংখ্যা কমেছে। এমনকি উচ্চশিক্ষাও আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। শ্রম খাতে নারীদের কম অংশগ্রহণ এবং শিক্ষা-দক্ষতার ধারাবাহিক ঘাটতি দেশের এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা নেওয়ার সক্ষমতা আরো সীমিত করে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার মাত্র ৩৫ শতাংশ। মানবসম্পদ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণে মাঝারি মাত্রার উন্নতি করা গেলে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি বর্তমান প্রবণতার তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি হতে পারে। আর নারী-পুরুষের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের ব্যবধান কমিয়ে আনার মতো উচ্চাভিলাষী সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে এই বৃদ্ধি ১৩ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।মানচিত্র দেখুন

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাত্র ২০ শতাংশ গ্রামে কর্মরত। বিপরীতে শহরে চিকিৎসকের ঘনত্ব গ্রামের তুলনায় ১৮ গুণ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ৮ শতাংশ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ৪৮ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগার কথা জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে ব্যর্থ হলে একদিকে বাড়বে বেকারত্ব ও অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, অন্যদিকে বাড়বে প্রবীণদের স্বাস্থ্য, পেনশন ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যয়। তখন কম আয়ের অবস্থায় থেকেই বার্ধক্যজনিত অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় এসব চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ এবং বিশ্বব্যাংকের রিজিয়নাল প্র্যাকটিস ডিরেক্টর জেম মেতে। আলোচনা সঞ্চালনা করেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে।

এ সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ যে জনমিতিক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, তা আগামী কয়েক বছরে প্রতিকূলে চলে যেতে পারে। এ অবস্থায় সরকার পুরো জীবনচক্রভিত্তিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, তরুণদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। তা না হলে জনমিতির সুবিধা নেওয়া সম্ভব হবে না। এ ছাড়া সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে ৫০ লাখ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেড় কোটি মানুষকে সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানান তিনি।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘কর্মক্ষম জনসংখ্যার সুবিধা কাজে লাগানোর সময় দ্রুত শেষ হবে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ও অনুপাত বাড়ছে। কিন্তু এ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে পারছে না বাংলাদেশ। কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, নারীর কম অংশগ্রহণ ও দক্ষতার ঘাটতিতে জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগছে না। অন্যদিকে প্রবীণ জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়ছে। ২০৪৫ সালে দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কমতে শুরু করবে। ২০৫১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবীণপ্রধান দেশে পরিণত হবে।বাংলাদেশ সংবাদ

বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদন ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত ২০৪৫ সাল পর্যন্ত বাড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার গড় সময়ের তুলনায় এটি প্রায় এক দশক বেশি সুযোগ তৈরি করেছে। এই সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থান, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে জনসংখ্যার এ সুবিধা কাজে লাগানো যাবে না।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জাঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের দশের জনমিতিক সুযোগ নির্ভর করছে এখন দেশ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তার ওপর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, তরুণদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তোলা এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের বাধা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বার্ধক্যকালীন আয়নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। এ জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ধীরগতি

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের দুর্বল চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দেশে কর্মরত মানুষের প্রায় ৮৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় পাঁচ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। এসব কর্মসংস্থানে চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা অবসরকালীন সুবিধা সীমিত। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে ধীরগতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে কর্মী কমিয়েছে। উচ্চশিক্ষা থাকলেও আনুষ্ঠানিক চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না। নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ কম এবং শিক্ষা ও দক্ষতার ঘাটতিও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পথে বাধা হয়ে রয়েছে।মানচিত্র দেখুন

ইত্তেফাক

‘ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে নৈরাজ্য সৃষ্টির চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চলছে; সরকারের কাছে এমন স্পষ্ট বার্তা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও সরকারকে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান পরিস্থিতির নেপথ্যে মূল ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে বহুমুখী তত্পরতা চালানোর চেষ্টা করতে পারে বলেও সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সরকার নিজ দলীয় সাংগঠনিক উত্স থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে। সরকার ও বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশব্যাপী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও গোপালগঞ্জের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে। এছাড়া, বিদ্যুকেন্দ্র, ব্যাংক ও কেপিআইভুক্ত স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে তৈরি পোশাক শিল্পে অস্থিরতা নিয়ে রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ডাকা জরুরি বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। ডিসেম্বর সামনে রেখে দেশে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো চক্রান্ত সফল হতে না পারে—সেজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও করণীয় নিয়েও আলোচনা হয় ঐ বৈঠকে।

সরকারের কাছে এমন তথ্যও রয়েছে যে, চলমান অস্থিরতার নেপথ্যে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের কতিপয় নেতা সম্পৃক্ত রয়েছেন। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা ও ব্যবসায়ী তৈরি পোশাক কারখানার মালিক তাদেরও সরাসরি ইন্ধন রয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য খাতের আওয়ামী লীগ-সমর্থক কিছু ব্যবসায়ীও এতে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। শ্রমঘন এলাকাগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অন্যতম রপ্তানীমুখী শিল্প তৈরি পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিই এর মূল লক্ষ্য। এ কারণে সন্দেহভাজন এসব শ্রমিকনেতা ও ব্যবসায়ীদের ইতিমধ্যে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ডাকা জরুরি বৈঠকের আলোচনা এবং দলীয় ও বিভিন্ন উত্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মহলের ইন্ধন রয়েছে। এই অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে কিছু শিল্পমালিকও জড়িত। যাদের কেউ কেউ বিগত সরকারের আমলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্য ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।রাজনৈতিক খবর পড়ুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ-ও বলেছেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি- অনেক মুখোশধারী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করছে। আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নিরীহ গার্মেন্ট শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে, যাতে এখানে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়, দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে ব্যাহত করা যায়, গার্মেন্টসের উত্পাদনকে ব্যাহত করা যায়।’ তার দাবি, চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের তেমন সম্পৃক্ততা নেই। গত কয়েক দিনের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং শিল্প খাত ধ্বংস করতে সুযোগসন্ধানীরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনস্থলে অনুপ্রবেশ করেছে এবং ভুয়া স্লোগান দিয়ে সহিংসতা ছড়াচ্ছে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার শঙ্কা সহিংসতায় বাড়ছে উদ্বেগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সম্ভাব্য অবনতি ঠেকাতে সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন সঙ্ঘাত সহিংসতা একই সময়ে সামনে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে।

একই সাথে নভেম্বর মাসজুড়ে এবং ডিসেম্বরকে সামনে রেখে ত্রিমুখী সহিংসতার ছক তৈরি করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতা, ঝটিকা মিছিল থেকে ছদ্মবেশে থাকা হকার ও অটোরিকশা চালকদের দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ এবং টার্গেট কিলিংয়ের জন্য কিলার ভাড়া করা। সব মিলিয়ে ডিসম্বর পর্যন্ত এক ভয়ঙ্কর অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা।

এ দিকে সীমান্ত এলাকা দিয়ে উক্ত দলের নেতাদের কলকাতা থেকে ফেরার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

মঙ্গরবার (৩ নভেম্বর) ভোমরা স্থলবন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত সোমবার ও গতকাল ভোরে নিষিদ্ধ দলের কয়েকজন নেতাকর্মী ওপার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কয়েকজন দালালের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে তাদের প্রবেশ করানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের দাবি, শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে সঙ্ঘাত সৃষ্টির বিভিন্ন কৌশল নেয়া হচ্ছে। নভেম্বর মাসের শুরুতেই পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে ইন্ধনের কারিগর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে গোয়েন্দারা। শুধু পোশাক শ্রমিকই নয় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আরো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছে। আর এসবের পেছনে অর্থ জোগান দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের শিল্পপতি ও প্রভাবশালী নেতারা।

গতকাল এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো: শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘এই সহিংসতায় যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের গ্রেফতার করেছি তাদের মোবাইল থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। এদের মধ্যে একজনের মোবাইলে ১০ জনের জন্য ৩৭ হাজার টাকা ডিজিটাল হাজিরা হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হয়। আমরা আরো জিজ্ঞাসাবাদ করছি এর নেপথ্যে কারা জড়িত।’

হাসিনার ঘোষণা ও মাঠের তৎপরতা: শেখ হাসিনা একাধিক মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। ডিসেম্বরের দিকে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাসহ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান।

এই ঘোষণার পর প্রভাব মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। ২৩ অক্টোবর নওগাঁর মান্দায় অটোরিকশায় মাইক লাগিয়ে ‘ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরছেন’ প্রচারের অভিযোগে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে অটোরিকশা।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃতদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আগাম অভিযান, গ্রেফতারের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন: একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, হাসিনার ঘোষণার পর গত এক মাসে সারাদেশে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। যাদের বড় অংশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও শিল্পাঞ্চলে পুলিশ, র‌্যাব ও যৌথ বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক নজির হিসেবে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ দাবি করেছিলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম অবস্থান নেয়ায় মিছিল-সমাবেশের পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এবারো একই কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে তিনি গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান।

শ্রমিক আন্দোলন, সংঘর্ষ ও ছুটি: ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ১ নভেম্বর গাজীপুর ও মিরপুরে শুরু হয়ে ২ নভেম্বর সাভার-আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। মিরপুরে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় ২টা পর্যন্ত পুলিশের সাথে সংঘর্ষ চলে, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৩০০ কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে সাভার-আশুলিয়ায় ২৬৪টি।

পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জরুরি বৈঠকে বসেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় থাকলেও শ্রমিকদের দাবির মুখে আগেভাগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কী আছে: একটি গোয়েন্দা সংস্থা ডিসেম্বরকে টার্গেট করে শ্রমিক আন্দোলনে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে। প্রতিবেদনটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা হয়েছে। জড়িতদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিরা নজরদারিতে আছে। শীর্ষ মহলের সবুজ সঙ্কেত পেলে কঠোর আইনি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। অন্য একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দিচ্ছেন এবং কেউ কেউ শ্রমিকদের সাথে মিশে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ।

বণিক বার্তা

‘বন্দরে হ্যান্ডলিং কমছে, কাস্টমসে আমদানিও নিম্নগামী’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্থরতার চিত্র ফুটে উঠছে বন্দর ও কাস্টমসের পরিসংখ্যানে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে অক্টোবরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে শুল্কায়িত আমদানি পণ্যের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারে চাহিদা কমার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা এবং বাড়তি আমদানি ব্যয় শিল্প ও ব্যবসার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, উৎপাদন ও ভোগের এ সংকোচন দীর্ঘায়িত হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানেও চাপ আরো বাড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মজুদ, আমদানি এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পূর্বাভাসভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) শুরু থেকেই বন্দরে মাসভিত্তিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিক কমছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৬০১ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও আগস্টে তা কমে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৪ টিইইউতে নেমে আসে। সেপ্টেম্বরে হ্যান্ডলিং আরো কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৯ হাজার ২৫৩ টিইইউতে। শুধু মাসভিত্তিক নয়, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায়ও বন্দরে সামগ্রিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং কমেছে। চবকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৮ লাখ ৬৩ হাজার ২৭৮ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কম।

নিম্নগামী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আমদানি পরিসংখ্যানেও। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া ৭৫ লাখ ৪৯ হাজার টন পণ্য শুল্কায়ন করা হয়েছে, যার মূল্য ৪০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে শুল্কায়িত পণ্যের পরিমাণ ছিল ৯১ লাখ ৬৫ হাজার টন এবং মূল্য ৪৫ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শুল্কায়িত পণ্যের পরিমাণ প্রায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মূল্য ১০ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা বলতে গেলে মন্দার মধ্যেই রয়েছি। অর্থনীতি এক ধরনের স্থবিরতার মধ্যে রয়েছে। একদিকে প্রবৃদ্ধির গতি ধীর, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি উচ্চ। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কম, প্রকৃত আয়ও চাপে রয়েছে। মজুরি সূচকের প্রবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম। সবকিছু মিলিয়ে অর্থনীতি সংকটপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি নেতিবাচক দিকেও যাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও আমদানি কমে যাওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মন্থরতা একটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমদানির মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও মধ্যবর্তী পণ্য। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি হলে তা নতুন বিনিয়োগ কিংবা বিদ্যমান শিল্পের সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ার অর্থ হলো নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণে গতি নেই।’

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ধারাকেও বিনিয়োগ পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরো কমেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থরতার ইঙ্গিত বিভিন্ন সূচকেই পাওয়া যাচ্ছে। সব সূচক মিলিয়ে বলা যায়, অর্থনীতি মন্দার দিকেই এগোচ্ছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক হিসাবের পাশাপাশি মাসভিত্তিক তুলনাতেও শুল্কায়িত পণ্যের আমদানিতে বড় পতন দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ৯০ লাখ ৮৩ হাজার টন পণ্য শুল্কায়ন হয়েছিল, যার মূল্য ছিল ৪৮ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। অক্টোবরে তা কমে দাঁড়ায় ৭৫ লাখ ৪৯ হাজার টনে এবং শুল্কায়িত মূল্য নেমে আসে ৪০ হাজার ৯১১ কোটি টাকায়। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে শুল্কায়িত পণ্যের পরিমাণ প্রায় ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মূল্য ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বন্দরে আমদানি-রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে গতি এসেছে। তবে দেশে আমদানি-রফতানি বাড়া বা কমার বিষয়টি মূলত ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।’

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি সমুদ্রগামী কনটেইনার টার্মিনাল কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে পিসিটি ও এনসিটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কিছুটা বাড়লেও সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থে (জিসিবি) উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। টার্মিনালভিত্তিক হিসাবে সিসিটিতে গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ১ লাখ ১৩ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে ৮৮ হাজার ৫০৪ টিইইউতে নেমেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হ্যান্ডলিং কমেছে ২৪ হাজার ৪৯৬ টিইইউ বা প্রায় ২২ শতাংশ।

জিসিবিতে পতন আরো বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এখানে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৯ টিইইউতে। সে হিসাবে হ্যান্ডলিং কমেছে ৮৮ হাজার ৯৬৫ টিইইউ বা প্রায় ২৮ শতাংশ।

নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা ও শিল্প সম্প্রসারণে অনিশ্চয়তা বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং কাস্টমসে শুল্কায়িত আমদানি পণ্যের পরিমাণ কমার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে উদ্যোক্তারা নতুন কারখানা স্থাপন কিংবা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন অবকাঠামো তৈরি করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পে বিকল্প জ্বালানিতে উৎপাদন চালানো ব্যয়বহুল। ফলে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন উদ্যোক্তারা, যার প্রভাব শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির চাহিদায়ও পড়তে পারে।

এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সবাই একটা আতঙ্কের মধ্যে আছে। বিনিয়োগ হচ্ছে না। উদ্যোক্তারা এখন অপেক্ষা করে পরিস্থিতি দেখার অবস্থানে রয়েছেন। নতুন এক্সপানশনে যাবেন, নতুন ফ্যাক্টরি করবেন, নাকি ব্যবসায় কিছু পরিবর্তন আনবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না উদ্যোক্তারা।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: যোগ্য কাজ নেই ৬০% স্নাতকের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী দুই দশকে বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়বে, কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হলে এই জনশক্তি অর্থনীতির জন্য বড় চাপে পরিণত হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশে শ্রমের জোগান কর্মসংস্থানের চেয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে। অথচ এখনই উচ্চশিক্ষিতদের বড় অংশ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে তরুণের সংখ্যা বেশি হওয়ার যে অর্থনৈতিক সুবিধা, তা-ও পাওয়া যাবে আর মাত্র ১৯ বছর।সংবাদ বিশ্লেষণ

বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের সামনে থাকা এই চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন বাংলাদেশে স্নাতক বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশের অধিক বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত রয়েছেন, যেখানে তাঁদের আয় আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের তুলনায় ৪৫ থেকে ৮৪ শতাংশ কম।

এতে সতর্ক করে দিয়ে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের হাতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর আধিক্যের সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগানোর সময়ও খুব বেশি নেই। ২০৪৫ সালেই কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করবে। কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দ্রুত অগ্রগতি না হলে ধনী দেশে পরিণত হওয়ার আগেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবাসহ বাড়তি বড় দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের রিজিওনাল প্র্যাকটিস ডিরেক্টর জেম মেতে, এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকা লিজেলোটে ওনসর্গ এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল মার্টিন। পরে এ নিয়ে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ প্রমুখ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো মানসম্মত কর্মসংস্থানের অভাব। বর্তমানে দেশের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশই (৫ কোটি ৮০ লাখ) অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। এসব কাজে সাধারণত নিয়োগপত্র, নির্ধারিত মজুরি কিংবা চাকরির নিরাপত্তা থাকে না। কর্মীরা যেকোনো সময় কাজ হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন।মানচিত্র দেখুন

দেশ রূপান্তর

‘সংবিধান সংশোধন কার প্রয়োজনে’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়,রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি সংবিধানে রাষ্ট্রের চরিত্র, শাসনব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার ও ক্ষমতার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গত ৫৪ বছরে রাজনৈতিক পালাবদল, সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সংবিধান বারবার সংশোধিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সংবিধানে ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে। কিন্তু এই সংশোধন রাষ্ট্রের পরিবর্তন নাকি ক্ষমতার রাজনীতির জন্য তা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর থেকে পাঁচ দশকে সংবিধানের এই কাটাছেঁড়া নিয়ে নানা আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্ক উঠেছে সবসময়ই।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের সংবিধানের সবশেষ সংশোধনীটি হয়েছিল ২০১৮ সালের ৮ জুলাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সময়ে। ওই সংশোধনীতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসন পরবর্তী ২৫ বছরের জন্য বহাল রাখা হয়। সংবিধানের সংশোধন কিংবা সংস্কারের প্রক্রিয়া আবারও শুরু হচ্ছে। আলোচনা ও বিতর্কও সামনে আসছে সমানতালে। সংবিধান সংশোধন কিংবা সংস্কার নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ঐকমত্যে যেতে পারেনি।

এমন পরিস্থিতিতে আজ ৪ নভেম্বর পালিত হবে সংবিধান দিবস। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। সংবিধান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালনাসহ নাগরিকের মৌলিক অধিকারের বিষয় সমন্বিত সর্বোচ্চ দলিল। তবে রাজনৈতিক টানাপড়েনে সাংবিধানিক শাসনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলেন, সংবিধান সংশোধনী রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও আইনি প্রয়োজন মেটানোর জন্য করা হলেও বেশ কয়েকটি সংশোধনী রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ও ক্ষমতার বিন্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে। কোনোটি সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়েছে, কোনোটি তা বদলে দিয়েছে, কোনোটি নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে।

সংবিধানের ১৭টি সংশোধনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, নাগরিক অধিকার ও সংসদীয় প্রতিনিধিত্বে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কিছু সংশোধনী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে, আবার কিছু সংশোধনী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু ও বাতিল দুই সিদ্ধান্তই নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়া এবং পরে তা বাতিল হওয়ার ঘটনাও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে মতামত রয়েছে।রাজনৈতিক খবর পড়ুন

এদিকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সংবিধান সংস্কারের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ এবং ২০২৬ সালের গণভোটের পর সংবিধান সংশোধনের নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটি সংস্কার নিয়ে কাজ করছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে সংবিধানে ১৮তম সংশোধনী যুক্ত হতে পারে। বিশেষ কমিটির আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও মেয়াদের সীমা, রাষ্ট্রপতির ভূমিকা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, গণভোটের বিধান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনার বিষয় এসেছে। এ ছাড়া দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বা উচ্চকক্ষ গঠন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা বৃদ্ধি, ৭০ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদসহ বিভিন্ন বিধান পরিবর্তনের প্রস্তাবও আলোচনায়। তবে এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত সংশোধনী বিল নয়। কোন কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে, তা রাজনৈতিক ঐকমত্য, বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা। বিশেষ কমিটি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন সংসদে জমা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনী বিল প্রস্তুত করে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম অধিবেশনে উত্থাপনের পরিকল্পনার রয়েছে। তবে এখনো ঘোষিত পরিকল্পনা, সংশোধনীর চূড়ান্ত বিষয়বস্তু নির্ধারিত হয়নি।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম