শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত আরও ২ হাজার আবেদনকারীকে গেজেটভুক্ত করা ও শহিদ পরিবারের বাদ পড়া সদস্যদের দ্রুত গেজেটভুক্তি, ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতিতে (এমআইএস) অন্তর্ভুক্তি, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুই হাজারের বেশি আবেদনকারীর গেজেট প্রকাশের দাবি জানান তারা।
সোমবার ও মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামনে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আহত যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। আন্দোলনকারীরা বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে স্বীকৃতির প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় প্রকৃত যোদ্ধারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে দাবিগুলো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে হবে। তাদের অভিযোগ, গেজেটভুক্ত না হওয়ায় পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ববরণকারীসহ গুরুতর আহত অনেক যোদ্ধা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। চিকিৎসার অভাবে কুমিল্লায় একজন এবং প্রায় দুই মাস আগে রংপুরে জুলাই যোদ্ধা মধুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা চন্দন সূত্রধর রাজের মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরে তারা বিচার দাবি করেন। নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানান বক্তারা।
আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ জানান, ১৭ জেলার যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ পাওয়া এক হাজার ১০০টির বেশি আবেদন তদন্ত শেষে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ছাড়পত্র পেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অধিকাংশ শিক্ষার্থী গেজেটভুক্ত হলেও বিভিন্ন পেশার আহত ব্যক্তিরা তথ্যের ঘাটতি ও সমন্বয়হীনতার কারণে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তারা জানান, মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি এবং গণস্বাক্ষর জমা দিয়েও সমাধান পাননি তারা। রাসেল, আশরাফুল ও সাব্বির হোসেন মুন্নাসহ কয়েকটি শহিদ পরিবার এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছে। কর্মসূচিতে কাজী মাসুদুর রহমান, মো. জুবায়ের, আহাদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মনির, মো. সোহাগ হোসেন, মো. মোবারক হোসেন ও মো. আল আমিন খান বক্তব্য দেন।












