শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরা উল্লেখযোগ্য দিক, পরবর্তীতে জাপান সফর প্রসঙ্গসহ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ, দলীয় পুনর্গঠনের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। তবে, বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে দুর্গাপূজার সার্বিক পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে।
বৈঠক সূত্র মতে, দলের হাইকমান্ড থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এমনকি বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র আরও জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর কথা আলোচনায় উঠে আসে। এছাড়া দেশের ব্যাংকিং খাত, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সার্বিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কীভাবে আরও ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে নেতারা তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে থাকা জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, বৈঠকে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সারা দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা-পর্যালোচনা করা হয়। কীভাবে পূজাকে সার্বজনীন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়? বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়, দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ক্রমবর্ধমান মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সংকট, বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সরকার বিভাগগুলোর সক্রিয়তা বাড়ানোর ওপর বৈঠকে জোর দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বৈঠকে আসন্ন দুর্গাপুজার নিয়ে মূল আলোচনা হয়েছে। কীভাবে প্রত্যেকের মাঝে পূজার আনন্দ ভাগ করে দিতে পারি? কীভাবে সারাদেশে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে দলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় পূজামন্ডপের পূজা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকা পালন করবেন, নেতারা সেই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
দলের নেতাকর্মীদের সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আপনারা অবগত আছেন কীভাবে একটি মহল দেশের বিরুদ্ধে, গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের নীল নকশা করছে। কীভাবে অপপ্রচার, অপকীর্তি এবং ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে? সরকার তার দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সদা সতর্ক থাকবেন। ইতোমধ্যে দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটি করা হয়েছে। আমরা প্রত্যেকে সজাগ আছি।
প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে নেতৃবৃন্দ আলোচনা করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জাতীয় কাউন্সিল ও কমিটি নিয়ে কোনো আলোচনা, কোনো বার্তা এখন পর্যন্ত আমার কাছে পৌঁছায়নি যেটা আপনাদের কাছে দিতে পারি।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, রুহুল কবির রিজভী, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ইসমাঈল জবিউল্লাহ ও আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ।












