শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক বাস্তবতা ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অভাব
ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ
৪ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক, ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা কারণ। ইসলামি শিক্ষার প্রসার, ধর্মীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসাগুলোর একটি ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই শিক্ষাব্যবস্থার সম্প্রসারণ কি দেশের সামগ্রিক শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হচ্ছে? নাকি কোনো সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও কার্যকর তদারকি ছাড়াই একটি বিশাল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠছে, যার পরিণতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য গুরুতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে?
আমার মতে, বিষয়টি এখন আর শুধু ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান, তরুণ জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ, শিশুর নিরাপত্তা, বেকারত্ব এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
১. কওমি মাদ্রাসার প্রসার কেন?
বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার প্রসারের প্রথম কারণ হলো সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি এবং ইসলামি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই কোরআন, হাদিস, ফিকাহ ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষিত করতে চান। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মসজিদ, মক্তব, হাফেজী মাদ্রাসা এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দ্বিতীয় কারণ হলো দারিদ্র্য। বাংলাদেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার সন্তানদের সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোর আর্থিক সামর্থ্য রাখে না। অনেক কওমি মাদ্রাসায় বিনা বেতনে অথবা নামমাত্র খরচে পড়াশোনা, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান অনেক সময় আশ্রয়ের জায়গা হয়ে ওঠে।
তৃতীয় কারণ হলো রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত বিদ্যালয়, পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসুবিধার অভাব রয়েছে। এই শূন্যস্থান পূরণে স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, মসজিদ কমিটি এবং দানশীল ব্যক্তিরা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
চতুর্থ কারণ হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতে অনেক সময় বড় ধরনের সরকারি অনুমোদন, অবকাঠামো কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি, একটি ছোট ঘর, কিছু ছাত্র এবং একজন ধর্মীয় শিক্ষক দিয়েই একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করা সম্ভব।
এই সহজ প্রতিষ্ঠাপ্রক্রিয়া কওমি মাদ্রাসার বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছে।
২. অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তার
বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো, সব প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন কার্যকর ও সমন্বিত সরকারি নিবন্ধন, পরিদর্শন এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা নেই।
আলিয়া মাদ্রাসা বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে কওমি মাদ্রাসাগুলো সাধারণত নিজস্ব শিক্ষা বোর্ড, পরিচালনা কমিটি ও ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত হয়। কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়ে আল-হাইআতুল উলয়া এবং ছয়টি বোর্ডের সমন্বিত কাঠামো থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে দেশের প্রতিটি ছোট-বড় কওমি মাদ্রাসা নিয়মিত সরকারি পরিদর্শন ও একই ধরনের জবাবদিহির আওতায় রয়েছে।
২০১৮ সালে সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমান দেওয়া হয়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট উচ্চতর সনদের স্বীকৃতি এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান, শিক্ষক যোগ্যতা, পাঠ্যক্রম ও শিশু সুরক্ষার নিশ্চয়তা এক বিষয় নয়।
এখানেই রাষ্ট্রীয় নীতির বড় ঘাটতি।
বাংলাদেশের ২০২২ সালের BANBEIS-সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশে ৩৬,৫৯৭টি কওমি মাদ্রাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কওমি মাদ্রাসাগুলোর বিকেন্দ্রীভূত কাঠামো এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন হিসাবের কারণে প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যে দেশে হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে কতজন শিক্ষার্থী পড়ছে, কতজন শিক্ষক নিয়োজিত আছেন, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী, কতজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে কর্মসংস্থানে প্রবেশ করছেন—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কিন্তু এই তথ্যের ঘাটতি নীতিনির্ধারণকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
৩. বেকারত্ব সৃষ্টি এবং নতুন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার চক্র
আমার দৃষ্টিতে কওমি মাদ্রাসার অস্বাভাবিক সম্প্রসারণের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে, যা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয় না।
প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কওমি মাদ্রাসা থেকে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা সম্পন্ন করছেন। তাঁদের একটি অংশ ইমামতি, খতিব, মুয়াজ্জিন, ধর্মীয় শিক্ষকতা এবং সংশ্লিষ্ট পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। কিন্তু সবাই যে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন, তা নয়।
বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত থাকার পর আধুনিক সাধারণ শিক্ষা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা কিংবা পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্য প্রচলিত শ্রমবাজারে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে অনেক শিক্ষিত তরুণ বাস্তব জীবনে কর্মসংস্থানের সংকটে পড়েন।
এই সংকট থেকে বের হওয়ার একটি সহজ পথ হিসেবে তাঁদের কেউ কেউ নিজেরাই একটি মক্তব, হাফেজী মাদ্রাসা অথবা ছোটখাটো কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয়ভাবে কিছু শিক্ষার্থী সংগ্রহ করেন, এলাকার মানুষের কাছ থেকে অনুদান নেন এবং শিক্ষকতা শুরু করেন।
এভাবে একজন বেকার বা কর্মসংস্থানহীন ধর্মীয় শিক্ষার্থী নতুন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বা শিক্ষক হয়ে ওঠেন।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার আগে কি কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়? সেখানে কতজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজন? শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির যথাযথ প্রশিক্ষণ আছে কি? শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষার সুযোগ রয়েছে কি? প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কী ধরনের কর্মসংস্থান পাবে?
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায় না।
ফলে একটি অস্বাস্থ্যকর চক্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়:
একটি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থী বের হচ্ছে, তাঁদের একটি অংশ কর্মসংস্থান পাচ্ছে না, তাঁদের কেউ কেউ আবার নতুন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করছেন, সেখানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে এবং কয়েক বছর পর সেই প্রতিষ্ঠান থেকেও আরও একদল শিক্ষার্থী বের হচ্ছে।
এভাবে সমস্যার সমাধান না করে সমস্যাটিই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
অর্থাৎ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না।
এটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান-চক্র বলা যেতে পারে।
৪. প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক এবং শিক্ষার মানের সংকট
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নির্ভর করে তার শিক্ষকদের যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষাদান পদ্ধতির ওপর।
একজন ব্যক্তি ধর্মীয় বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেছেন বলেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজন দক্ষ শিক্ষক হয়ে যাবেন, এমন ধারণা সঠিক নয়।
শিশুমনোবিজ্ঞান, বয়সভিত্তিক শিক্ষাদান, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, শিশু সুরক্ষা, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ সম্পর্কে একজন শিক্ষকের যথাযথ প্রশিক্ষণ থাকা প্রয়োজন।
কিন্তু যেসব ছোট প্রতিষ্ঠান কোনো কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব যোগ্যতা কতটুকু যাচাই করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষার অভিজ্ঞতাই শিক্ষক হওয়ার প্রধান যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। অথচ একজন শিক্ষককে শুধু ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন হলেই চলবে না; তাঁকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের দায়িত্বও পালন করতে হবে।
বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসায় ছোট শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি এবং বলাৎকারের অভিযোগ: রাষ্ট্র কি দায় এড়াতে পারে?
কওমি মাদ্রাসা সম্প্রসারণের আলোচনায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু মাদ্রাসার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাস্তাঘাটে, বাজারে এবং মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাদ্রাসার খরচ চালানোর নামে ছোট শিশুদের অর্থ সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হয়।
যদি কোনো প্রতিষ্ঠান শিশুদের শিক্ষার পরিবর্তে তাদের দিয়ে ভিক্ষা করায়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়; এটি শিশুর অধিকার ও মর্যাদারও লঙ্ঘন।
একটি শিশুর কাজ হচ্ছে শিক্ষা গ্রহণ, খেলাধুলা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা। তাকে প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কোনো নৈতিক বা আইনগত বৈধতা থাকতে পারে না।
আরও ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, কিছু মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের বলাৎকার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, মামলা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।
২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত Dhaka Tribune-এর একটি অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদনে গাজীপুর, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, পাবনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তার ও আইনি কার্যক্রমের কথা উঠে এসেছে।
JusticeMakers Bangladesh in France-এর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ছেলেশিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ১৩১টি ঘটনায় ১৭১ জন ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৭২টি ঘটনা মাদ্রাসায় ঘটেছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসাকে পৃথক করে না। সুতরাং এই তথ্য দিয়ে শুধু কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানগত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
তবুও এসব ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন দাঁড় করায়: আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
একটি শিশু যখন বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে থেকে মাদ্রাসায় অবস্থান করে, তখন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও পরিচালকদের ওপর তার নিরাপত্তার বিশেষ দায়িত্ব বর্তায়। সেখানে যদি কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতন করেন, কিংবা অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
এখানে স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন, সব কওমি মাদ্রাসা বা সব ধর্মীয় শিক্ষককে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা অন্যায়। অসংখ্য সৎ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা আন্তরিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় পরিচয় অপরাধের দায় থেকে কাউকে অব্যাহতি দিতে পারে না।
শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে কোনো আপস নয়, কোনো সামাজিক চাপ নয় এবং কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রভাবও নয়। অপরাধের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. প্রকৃত শিক্ষা থেকে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন নয়; শিক্ষার উদ্দেশ্য একজন মানুষকে জ্ঞানী, দক্ষ, বিবেকবান, আত্মনির্ভরশীল এবং সমাজের জন্য উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
একজন শিক্ষার্থী কোরআন, হাদিস ও ইসলামি আইনশাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবেন, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, ইতিহাস, নাগরিক শিক্ষা এবং আধুনিক বিশ্বের প্রয়োজনীয় জ্ঞান থেকেও বঞ্চিত করা উচিত নয়।
কওমি শিক্ষাব্যবস্থার অনেক প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা যখন মাদ্রাসা থেকে বের হন, তখন তাঁদের সামনে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে বেসরকারি চাকরি, সরকারি চাকরি, ব্যাংকিং, ব্যবসা, প্রযুক্তি, শিল্প, প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন, তার অনেক কিছুই তাঁরা অর্জন করতে পারেন না।
BRAC-এর ২০২৩ সালের Madrasah Skills and Employment গবেষণায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে পূর্ববর্তী গবেষণার বরাত দিয়ে মাদ্রাসা স্নাতকদের বেকারত্বের একটি উচ্চ অনুমানও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সেই ৭৫ শতাংশের হিসাবকে বর্তমান সময়ের সব কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর নির্ভুল বেকারত্বের হার হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না, তথাপি কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সমস্যাটি যে বাস্তব, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এর পরিণতি শুধু ব্যক্তিগত বেকারত্ব নয়। দেশের একটি বড় তরুণ জনগোষ্ঠী তাদের সম্ভাব্য উৎপাদনশীলতা কাজে লাগাতে পারছে না। পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিও প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
৭. কওমি মাদ্রাসার প্রসারে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা
কওমি মাদ্রাসার বিস্তারকে শুধু শিক্ষার চাহিদা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না।
বাংলাদেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতৃত্বের সামাজিক প্রভাব অনেক বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা মানে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা নয়; অনেক সময় এর মাধ্যমে একটি সামাজিক প্রভাববলয়ও গড়ে ওঠে।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিরা স্থানীয় সমাজে বিশেষ মর্যাদা ও প্রভাব অর্জন করতে পারেন। অনুদান সংগ্রহ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা থাকতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলোও বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতৃত্বের সামাজিক প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়েছে।
ফলে কওমি মাদ্রাসার সংস্কার অনেক সময় শুধু শিক্ষা সংস্কারের বিষয় থাকে না; এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
তবে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি পরস্পরের বিরোধী নয়। রাষ্ট্র কারও ধর্মীয় বিশ্বাস বা ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। কিন্তু সেই স্বাধীনতার আড়ালে শিশুদের অধিকার, শিক্ষার মান এবং আইনের শাসন উপেক্ষা করার সুযোগও দেওয়া যায় না।
৮. সমাধান কী? কওমি শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজন মৌলিক সংস্কার
আমি মনে করি, কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া কোনো বাস্তবসম্মত বা গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। বরং প্রয়োজন একটি কার্যকর, পর্যায়ক্রমিক এবং অংশগ্রহণমূলক সংস্কার কর্মসূচি।
প্রথমত, দেশের প্রতিটি কওমি মাদ্রাসাকে একটি জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষকের সংখ্যা, পরিচালনা কমিটি, আবাসিক সুবিধা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত মান নির্ধারণ করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি এবং নাগরিক শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক মৌলিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে। শিশুদের সঙ্গে আচরণ, শিশু মনোবিজ্ঞান, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শৃঙ্খলা এবং শিশু সুরক্ষার বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
চতুর্থত, আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর অভিযোগ গ্রহণ কমিটি, স্বাধীন তদন্তের সুযোগ, অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
পঞ্চমত, কোনো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাতে পারবে না। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহের স্বচ্ছ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা থাকতে হবে। শিশুদের ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
ষষ্ঠত, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে সম্প্রসারণ করতে হবে। কম্পিউটার, হিসাবরক্ষণ, কৃষি, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, প্লাম্বিং, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, ভাষা শিক্ষা এবং অন্যান্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সপ্তমত, মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করতে হবে। যাঁরা ধর্মীয় পেশায় যেতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ থাকবে। কিন্তু যাঁরা অন্য পেশায় যেতে চান, তাঁদের জন্যও সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।
অষ্টমত, নতুন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মানদণ্ড, শিক্ষকসংখ্যা, অবকাঠামো, শিক্ষার্থী সুরক্ষা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার শর্ত নির্ধারণ করতে হবে। উদ্দেশ্য হবে মানহীন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রোধ করা, ধর্মীয় শিক্ষার অধিকার সীমিত করা নয়।
নবমত, কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, আলেম-ওলামা, অভিভাবক, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী এবং সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সংস্কার কমিশন গঠন করা যেতে পারে।
৯. ধর্মীয় শিক্ষা বনাম আধুনিক শিক্ষা: একটি মিথ্যা বিরোধ
কেউ কেউ মনে করেন, আধুনিক সাধারণ শিক্ষা চালু করলে ধর্মীয় শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য নষ্ট হয়ে যাবে। এই ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
একজন শিক্ষার্থী একই সঙ্গে কোরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জন করতে পারেন এবং বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তিতেও দক্ষ হতে পারেন।
ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে আধুনিক জ্ঞান অর্জনের কোনো মৌলিক বিরোধ নেই।
বরং ইসলামি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যও মানুষকে জ্ঞান, নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবকল্যাণের পথে পরিচালিত করা।
তাহলে একজন কওমি শিক্ষার্থী কেন আধুনিক বিশ্বের প্রয়োজনীয় জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হবেন? কেন তাঁকে কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ নিয়ে জীবন কাটাতে হবে?
একজন আলেম যদি আরবি ও ইসলামি আইনশাস্ত্রের পাশাপাশি ইংরেজি, অর্থনীতি, আইন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন, তাহলে তাঁর কর্মক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
সুতরাং আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় করা প্রয়োজন, কোনো একটিকে বাদ দেওয়া নয়।
উপসংহার: মাদ্রাসার সংখ্যা নয়, শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎই হোক প্রধান বিবেচ্য
বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার প্রসার একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা। কিন্তু কোনো শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্য শুধু তার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না। বিচার করতে হয়, সেই প্রতিষ্ঠান থেকে কতজন দক্ষ, শিক্ষিত, নৈতিক ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক তৈরি হচ্ছে।
যদি একটি শিক্ষাব্যবস্থা থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ বের হয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ না পান, যদি তাঁরা আধুনিক শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে না পারেন, যদি সেই বেকারত্বের সমাধান হিসেবে আবার নতুন নতুন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সেই ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার জরুরি।
যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানো হয়, যদি আবাসিক শিক্ষার্থীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এবং অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও তদারকি ব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি শিশুকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর উদ্দেশ্য তাকে ভিক্ষুক, নির্যাতনের শিকার কিংবা ভবিষ্যতের বেকার নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা নয়। তাকে একজন জ্ঞানী, দক্ষ, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং কর্মক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হওয়া উচিত শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য।
বাংলাদেশের কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার তাই কোনো ধর্মবিরোধী উদ্যোগ নয়। এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং দেশের মানবসম্পদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর একটি অপরিহার্য উদ্যোগ।
আমরা চাই না কওমি মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যাক; আমরা চাই মানহীন, অনিবন্ধিত, অনিয়ন্ত্রিত ও জবাবদিহিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবাধ বিস্তার বন্ধ হোক। আমরা চাই ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটুক। আমরা চাই মাদ্রাসার প্রতিটি শিশু নিরাপদ থাকুক, প্রতিটি শিক্ষার্থী কর্মমুখী শিক্ষা পাক এবং প্রতিটি তরুণের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হোক।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে দেওয়া নয়; বরং সেই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যেন একটি শিক্ষিত, দক্ষ, নৈতিক ও কর্মক্ষম প্রজন্ম তৈরি হয়, তা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এখনই এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার নামে বেকারত্বের পুনরুৎপাদন নয়, প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি আধুনিক ও মানবিক শিক্ষাব্যবস্থা।
তথ্যসূত্র ও প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদন
১. BRAC, Madrasah Skills and Employment, ২০২৩।
২. Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics (BANBEIS), কওমি মাদ্রাসাসংক্রান্ত পরিসংখ্যান এবং ২০২২ সালের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
৩. The Daily Star, How Bangladesh is failing its Qawmi graduates, অক্টোবর ২০২৬।
৪. Dhaka Tribune, Sexual abuse allegations at madrasas raise questions over oversight, ২৫ অক্টোবর ২০২৬।
৫. The Daily Star, Dawrae Hadith gets master’s degree status, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
৬. The Daily Star, No beating, no inaction: Bangladesh Qawmi madrasa body sets new student protection rules, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।













