শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
২০২৪ সালের বৈষম্য আন্দোলনের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক আসামিকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দিতে আসামির পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা চাওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার দেশ ছেড়েছেন। প্রসিকিউশন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সাবেক এই প্রসিকিউটরের বিদেশভ্রমণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তাই এই তিনি কোথায় যাচ্ছেন বা যাবেন না, সে বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের কিছু করার নেই বলেও মনে করেন প্রসিকিউশনপ্রধান।
আন্দোলনের মধ্যে চট্টগ্রাম শহরে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্ত করা হবে, এমন আশ্বাস দিয়ে তার পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা চান তৎকালীন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। গত ১০ মার্চ গণমাধ্যম এই নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওইদিনই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রধান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর নিজেই।
প্রতিবেদন প্রকাশের আগের দিন গত ৯ মার্চ পদত্যাগ করেন সাইমুম রেজা তালুকদার।
গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে ব্রিফিং হয়। সেখানে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সে সময় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন, একজন প্রসিকিউটরকে কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অপরাধে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি ৩১ অক্টোবর দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। তার বিরুদ্ধে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি আট মাসেও প্রতিবেদন দিতে পারেনি, নাকি তাকে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি ইতালিতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিল?
জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এর কোনোটিই নয়। তিনি বলেন, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম চলছে। শেষ পর্যায়ে আছে, তারা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, যার (সাইমুম রেজা তালুকদার) বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ছিল, তাকে চাকরিচ্যুত (প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পদত্যাগ করেছেন) করা হয়েছে। তিনি (আমিনুল ইসলাম) ট্রাইব্যুনালে যোগদানের এক মাসের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে কোথাও যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল না। সে ক্ষেত্রে সাইমুম রেজা কোথায় যাচ্ছেন বা যাবেন না, সে বিষয়ে তাদের (চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়) কোনো কিছু করার নেই।
তখন সেই সাংবাদিক আবার বলেন, আপনি (চিফ প্রসিকিউটর) সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সাইমুম রেজা যে ঘুষ চেয়েছিলেন, এটা প্রমাণিত হয়েছে। এর তো ফৌজদারি ভিত্তি আছে। সে ক্ষেত্রে আপনারা আট মাসেও দেননি। এ কারণে…।
এ সময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই ঘুষ চাওয়া এবং দেওয়া—দুটোই কিন্তু অপরাধ। যারা তাকে (সাইমুম রেজা) ঘুষ প্রস্তাব করেছিলেন, তারাও কিন্তু সমভাবে দায়ী। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তিনি (চিফ প্রসিকিউটর) কিছু দিন বিদেশে ছিলেন। অন্যান্য প্রসিকিউটর যারা, তাদের একজনের মা মারা যাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ছিলেন না। নানান কারণে আসলে তারা প্রতিবেদন দিতে পারেননি। তারা যথাশিগগির সম্ভব ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন দেবেন।












