এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া
০১. মহান মে দিবস। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের স্বীকৃতির দিন। মেহনতি শ্রমিকদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতিবছর ১ মে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়। ১৮৮৬ সালের এদিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওই সময়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি অজ্ঞাতনামা কেউ বোমা নিক্ষেপ করলে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলি চালায়। এতে ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়। ওইদিন তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বিশ্বে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয় এই ঘটনার আরও পরে।
১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ সাল থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে। ১৮৯১ সালে আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে এ প্রস্তাব গ্রহন করা হয়। এরপর ১৮৯৪ সালে মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ধারবাহিকতায ১০০ বছর পর ১৯০৪ সালে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তাব গ্রহন করা হয়। ওই প্রস্তাবে বিশ্বজুড়ে সব শ্রমিক সংগঠন ১ মে ‘বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না করার’ সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে সারা বিশ্বে দিনটি ‘মে দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। পহেলা মে এক দিনের আন্দোলনের ফসল নয় বরং দীর্ঘ সময় ধরে দাবি আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামে কিছুটা প্রাপ্তি এবং স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে এই দিনে। কাজেই ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ শ্রমিকের মর্যাদা বৃদ্ধি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন।
০২. আজকের আধুনিক সভ্যতার ভিত্তিই হচ্ছে মেহনতি শ্রমজীবী মানুষের নিরলস পরিশ্রম। হাজার বছর ধরে শ্রমজীবী মানুষের রক্ত-ঘামে যে মানব সভ্যতার ঘড়ে উঠেছে , তা থেকে সেই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীই সকল সময় উপক্ষিত থেকেছে। আজকের উন্নত-সমৃদ্ধ পৃথিবীর কারিগর এসব অবহেলিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত, অধিকার বঞ্চিত শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এখনো অব্যাহত রয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় ‘অধিকার’ শব্দটির সুদৃঢ় শক্তি সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা ও দর্শনকে প্রভাবিত করেছে এবং পরিবর্তন সাধিত করেছে শ্রমিক শ্রেনীর। মেহনতি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রবণতা পৃথিবীর দেশে দেশে অধিকার বঞ্চিত মেহনতি মানুষের মধ্যে এক নবতর জাগরণ ঘটিয়েছে।
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পরিক্রমায় গতিশীল হয়েছে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক আদর্শের অগ্রযাত্রাকে। বিশ্বের বিবেকবান নাগরিকদের মানবিক সত্ত্বায়। মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও মানবিক বিশ্বের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শ্রমজীবী মানুষের আত্মনিবেদন আর স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধে সঞ্চারিত হয়েছে ।
০৩. বাংলাদেশে শ্রমিকশ্রেনীর স্বার্থের কথা বলতে গেলেই আজকাল শুধুই পোশাক শিল্পের শ্রমিকের কথা বলা হয়। অথচ এটা সঠিক চিত্র নয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ২০১৩ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে সব ধরনের শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা ৭ কোটি ৭৬ লাখের বেশী, এর মধ্যে সব ধরনের শ্রমজীবী নারী ও পুরুষ আছেন। যদি মনে করা হয় ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকের পক্ষে কথা বলার বা শ্রমিকের স্বার্থ দেখার প্রতিষ্ঠান, কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য যে সারাদেশে মাত্র ১৬৯ টি ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্য হচ্ছে ২৩ লক্ষ, যা মোট শ্রমজীবী মানুষের ৩% মাত্র। শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেও বড় পার্থক্য রয়েছে। যারা নির্দিষ্ট মজুরি কাঠামোতে আছে তাদের মধ্যেও ট্রেড ইউনিয়ন খুব সক্রিয় নয়, মাত্র ২৩% এর সদস্য আছেন। নারী শ্রমিকদের মাত্র ১৫% ট্রেড ইউনিয়নের সাথে যুক্ত আছেন কিন্তু নেতৃত্বে আছেন খুব কম তাই তাদের বিশেষ দাবি উপেক্ষিত হয় বার বার। সরকারি বড় বড় কারখানাতেই ট্রেড ইউনিয়ন বেশী সক্রিয় যেখানে কারখানাই চলে না বা প্রায় সকল কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। আর বেসরকারি বড় বড় কোম্পানিতে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুবিধা বা অধিকার স্বীকৃত নয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়নের যে দুরাবস্থা তার মূল কারণ হচ্ছে তারা মালিক বা কর্তৃপক্ষের সাথে নয় বরং তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন হয়ে একে অপরের বিরোধিতায় লিপ্ত থাকছে। শ্রমিকের স্বার্থ দেখার চেয়ে নিজ দল ও নিজ গোষ্টির স্বার্থই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাদের কাছে। অন্যদিকে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশী চোখে পড়ে গার্মেন্ট কারখানায় কিন্তু এখানেও প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ৬৩,০০০ ইউনিয়ন করার অনুমতি পেয়েছেন, কিন্তু তাও পুরোপুরি ট্রেড ইউনিয়নের নিয়ম মতো নয়। আমরা গত শতকের আশির দশকের শুরুতে স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ বা স্কপের যে তৎপরতা দেখেছিলাম আজ সেই সংগঠন অনেকটাই সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখন শ্রমিক দিবসে কথা বলতে গেলে শুধু দেশের ভেতরে যারা কাজ করছেন তাদের কথা নয় আমাদের বলতে হবে দেশের বাইরে প্রবাসী শ্রমিকের কথাও। সরকার যখন দায়িত্ব নিয়ে এই শ্রমিকদের বিদেশে পাঠায় এবং তাদের পাঠানো ডলার-পাউন্ড-রিয়ালে দেশের কোষাগার ভরে যায় তখন যদি কেউ তাদের অধিকারের কথা না বলে কিংবা তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব না নেয়, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর কিছু হতে পারে না।
বাংলাদেশ লেবার ফোর্সের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশের মোট শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। এর মধ্যে এক-চতুর্থাংশ মহিলা শ্রমিক। কিন্তু আমাদের দেশের শ্রমিকরা কতটুকু অধিকার পাচ্ছে, শ্রমিকদের কতটুকু কল্যাণ সাধিত হয়েছে আজ তা কঠিন এক প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। বাস্তবে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার যেন কিতাবে আছে গোয়ালে নেই! বরাবরই এই দেশের দিনমজুর, শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ বঞ্চিত ও শোষিত। প্রতিবছর শ্রমিক দিবস আসে আবার শ্রমিক দিবস চলে যায়। কিন্তু দেশের শ্রমিকদের ভাগ্য যেন আর খোলে না।
০৪. ঐতিহাসিক মে দিবস বা ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষার দিন। তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় তথা অধিকার আদায়ের দিন। শ্রমিকদের অস্তিত্ব ঘোষণার দিন। মে দিবসের প্রেক্ষাপট একজন শ্রমিকের সবচেয়ে বড় অধিকার বা দাবি হলো, তার শ্রমের যথোপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভ করা। উনিশ শতকের গোড়ার দিককার কথা। তখন দেশে দেশে পৃথিবীর শ্রমজীবী মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। মালিকেরা নগণ্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দরিদ্র মানুষের শ্রম কিনে নিতেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাড়ভাঙা শ্রম দিয়েও শ্রমিক তার ন্যায্য মূল্য পেতেন না। মালিকেরা উপযুক্ত মজুরি তো দিতেনই না, বরং তারা শ্রমিকের সুবিধা-অসুবিধা, মানবিক অধিকার ও দুঃখ-কষ্ট পর্যন্ত বুঝতে চাইতেন না। মালিকেরা তাদের অধীনস্থ শ্রমিককে দাস-দাসীর মতো মনে করতেন। আর তাদের সাথে পশুর মতো ব্যবহার করতেন। সুযোগ পেলেই মালিকেরা শ্রমিকের ওপর চালাতেন নানা শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন।
প্রতি বছর মে দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা একদিকে যেমন তাদের অধিকার আদায়ের রক্তাক্ত ইতিহাসকে স্মরণ করে তেমনি স্বপ্ন দেখে তাদের অধিকারের ষোলআনা প্রাপ্তির। বাংলাদেশের শ্রমিকরাও নিঃসন্দেহে এর বাহিরে নয়। কিন্তু আজও বাংলাদেশের শ্রমিকদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। বাংলাদেশের শ্রমিকদের দিকে তাকালে আমরা আজও দেখতে পাই মালিক শ্রেণী কিভাবে তাদেরকে শোষণ করছে। মালিক শ্রেণীর শোষণের ফলে অসহায়ের মতো শ্রমিকদেরকে প্রাণ দিতে হচ্ছে।
একুশ শতকে এসে শ্রমিকরা এর কতটুকু মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছে? বর্তমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে শ্রমিকশ্রেণির স্বার্থ নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। কারণ শ্রমিকরা এ দেশের সম্পদ। তাদের কারণেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। এ কারণে তাদের অবহেলার চোখে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাদের কাজের ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মহান মে দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুধাবন করতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে আমরা শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকারের কথা বলি কিন্তু বাস্তবে মজদুর মেহনতি মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে শাসক, প্রশাসক ও মালিকগোষ্ঠী আদৌ আন্তরিক হতে পারিনি। যদিও সময়ের ব্যবধানে শ্রমজীবী মানুষের যান্ত্রিক বিপ্লবের কারণে কাজের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু পরিবর্তন আসেনি শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে। তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার অদ্যাবধি অধরাই থেকে গেল। পোশাক শিল্পের বিকাশে এই দেশে নারীর শ্রমিকের অবদান অনেক বেশি। কিন্তু যেই নারী শ্রমিকের অবদানে দেশের জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে, সেই নারীশ্রমিকের চলমান জীবনযাপন বড়ই দুর্বিষহ। বেতনের সাথে যাদের জীবনযাত্রার ব্যয় খাপ খায় না তারাই হলেন গার্মেন্টস শ্রমিক। বাংলাদেশে কাজের ক্ষেত্রে পোশাকশ্রমিকের পর নির্মাণশ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় যাদের রক্ত ও ঘাম মিশে আছে তারাও তাদের শ্রমের ন্যায্য পাওনা অনেক সময় পায় না। শ্রম দিয়ে যারা শ্রমের মূল্য পায় না তারাই জানে জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকার লড়াই কত কষ্টের? শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং দেশের শ্রম আইনে সংবিধান অনুসারে শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষিত আছে। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার যেন কিতাবে আছে গোয়ালে নেই!
০৫. শহরকেন্দ্রিক গার্মেন্টশ্রমিক, দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ এবং কৃষি খাতে জড়িত বিপুল জনগোষ্ঠী প্রভৃতি স্বল্প আয়ের মানুষকে সংকট থেকে রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য তাদের কাজে লাগানোও প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দেশব্যাপী সচেতনতা প্রয়োজন। আরো বেশি প্রয়োজন শ্রমের যথাযথ মজুরি নিশ্চিত করা। পুঁজির মালিক কেবলই পুঁজি খাটিয়ে ধনী থেকে হচ্ছে আরো ধনী। পক্ষান্তরে, শ্রমিক রাত-দিন গাধার খাটুনি খেটেও উন্নত করতে পারছে না নিজের অবস্থার। তাই তো শ্রমজীবীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নামতে হয়েছে বহুবার। ঝরাতে হয়েছে রক্ত।
ঠিক তারই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৬ সালে মে মাসে আমেরিকার শিকাগোর হে মার্কেট স্কোয়ারে মালিকদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে। আন্দোলন নস্যাৎ করতে গুলি চালায় পুলিশ। প্রাণ দেন অনেক শ্রমিক। তাই তো প্রতি বছর সেই দিনের স্মরণে পালিত হয় মে দিবস বা শ্রমিক দিবস। কিন্তু দুঃখজনক হলো বছরে কেবল এক দিনই এটা ঢাকঢোল পিটিয়ে স্মরণ করা হয়। আর সারা বছর শ্রমিক অধিকারের দাবি থেকে যায় আড়ালে। এ থেকে বেরিয়ে এসে মে দিবসের চেতনায় আদায় করতে হবে শ্রমিকের অধিকার। এটাই হোক মে দিবসের মূলমন্ত্র।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ন্যায্য দাবি আদায়ে শ্রমিকদের আন্দোলন করতে হচ্ছে, আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকে জেল–জুলুমেরও শিকার হয়েছেন। পূর্বাপর সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বেকার হয়েছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট খাতের সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেসব পদাধিকারী ছিলেন, তাঁরা বহাল তবিয়তে আছেন। বাংলাদেশে মে দিবস পালন তখনই সার্থক হবে, যখন শ্রমিকদের সব ধরনের শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত রাখা যাবে। মালিকদের মনে রাখতে হবে, শ্রমিকদের ঠকিয়ে শিল্পের বিকাশ বা বাড়তি মুনাফা করা যাবে না। শ্রমিক বাঁচলেই শিল্প বাঁচবে, আর শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আশা করি, এই মনোভাব নিয়ে সরকার ও শিল্পমালিকেরা কাজ করবেন এবং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট থাকবেন।শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত হোক।
[ লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক ]
E-mail : gmbhuiyan@gmail.com
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া০১. মহান মে দিবস। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের স্বীকৃতির দিন। মেহনতি শ্রমিকদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতিবছর ১ মে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়। ১৮৮৬ সালের এদিনে...
বিস্তারিত পড়ুন
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়াকেউ আপনার মতের না হলে ভিন্ন মতের ভিন্ন দর্শন এর হলে তাঁকে হত্যা করতে হবে কেন ? এই হত্যা কি মানবতার পক্ষে? মানবাধিকারের পক্ষে ? অপরাধিরে বিচারের...
বিস্তারিত পড়ুন
মিতা রহমান১ মে, মে মাসের প্রথম দিন। যা মহান ‘মে দিবস’ হিসাবে বিশ্বে পরিচিত। বঞ্চিত, লাঞ্ছিত এবং অধিকারহারা শ্রমজীবী জনগণের অধিকার ও দাবি আদায়ের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে মে মাসের...
বিস্তারিত পড়ুন
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া২০২৪এর ৫ আগস্ট'র বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর, বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে 'তৌহিদী জনতা' বা 'বিক্ষুব্ধ মুসল্লি' ব্যানারে মব (উত্তেজিত জনতা) বা...
বিস্তারিত পড়ুন
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া০১. সাম্প্রতিক সময়ে ‘ধানের শীষ' প্রতীক নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া এক বক্তব্য নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা ও আলোচনা। আবার এই বক্তব্যটি তিনি দিয়েছেন...
বিস্তারিত পড়ুন
ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, ইস্তাম্বুল ১৯ এপ্রিল ২০২৬। ১৯৭৫-এ মুজিব হত্যার বেনিফিশিয়ারী বিএনপি। জাতিকে যারা উদ্ধার করেছিল, তাদের রক্ষা করার শক্ত কোন ব্যবস্থা করলো না। ১৯৯০ সালে ৩ জোটের আন্দোলনে এরশাদের...
বিস্তারিত পড়ুন
ফখরুদ্দীন আহমদশিক্ষকতা সবদেশেই একাধারে কঠিন আবার রিওয়ারডিং, সম্মানিত পেশা। বৃটেনে শিক্ষাদান ও শিক্ষকতা তার চেয়েও সম্মানজনক। তবে শিক্ষক হওয়ার জন্য উত্তীর্ণ হতে অনেকগুলো ধাপ- যা’ ৩য় বিশ্বের অনেক দেশেই অনুপস্থিত!...
বিস্তারিত পড়ুন
ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন, ১২ এপ্রিল ২০২৬ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আবারও প্রমাণ করছে—গণতন্ত্র শুধু ভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না; এটি টিকে থাকে প্রতিশ্রুতি, জবাবদিহিতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার উপর।...
বিস্তারিত পড়ুন
বাংলাদেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেমন হওয়া উচিত ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন, ৬ এপ্রিল ২০২৬। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো দক্ষ, সংবেদনশীল এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক গড়ে তোলা। একটি জাতির...
বিস্তারিত পড়ুন
ব্যারিস্টার রফিক আহমেদলন্ডন, ৪ এপ্রিল ২০২৬। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তচিন্তার মানুষ, প্রগতিশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো—ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের জন্ম...
বিস্তারিত পড়ুন
মিতা রহমানইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। দু:খজনক হলেও সত্য যে, এই যুদ্ধ ও সংঘাত শুধু মাত্র ইরানে মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সংঘঢ়াত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। এই...
বিস্তারিত পড়ুন
ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডনবিষয়টি নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর অপরাধের বিচারিক পরিণতি। তবে যখন সেই স্ত্রীর ছোট ছোট সন্তান রয়েছে, তখন এই রায় কেবল একজন ব্যক্তির শাস্তির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি...
বিস্তারিত পড়ুন
প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের খ্যাতিমান আইনজীবী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, শক্তিমান লেখক ও গবেষক, দক্ষ ও প্রাজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, বাংলাদেশের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ১৬ মার্চ ছিল...
বিস্তারিত পড়ুন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিএনপির জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সংখ্যার বিবেচনায় সংসদের পুরো কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ...
বিস্তারিত পড়ুন
যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মিস আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূতদেরকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকার যেকোনো সময় এটা করতে পারে। এটাকে শাস্তি বা ডিমোশন...
বিস্তারিত পড়ুন
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে। আন্তরিক অভিনন্দন বিজয়ী হওয়া জোট ও নতুন সরকারকে। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ...
বিস্তারিত পড়ুন
ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পথে । নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশ একটি...
বিস্তারিত পড়ুন
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া১৯৫২'র ভাষা আন্দোলনে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ছিলেন প্রথম কাতারে। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়ে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীনতার আগেই...
বিস্তারিত পড়ুন
মাইক, মঞ্চ ও মগজশূন্যতার মহাকাব্য বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে যদি “বিভ্রান্তি” নামে কোনো অলিম্পিক ইভেন্ট থাকত, তাহলে বিএনপি নিরঙ্কুশ স্বর্ণপদক পেত। কারণ তাদের নির্বাচনী প্রচারণা কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়—এটা এক চলমান...
বিস্তারিত পড়ুন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জনাব এম এ মালিক নামটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, সুপরিচিত এবং আলোচিত ব্যক্তিত্ব । কারণ বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব (Visionary Leadership) বিএনপি নেতাকর্মীদের...
বিস্তারিত পড়ুনবাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫( লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com,