উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূল থেকে সাগরের দিকে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পিয়ংইয়ংয়ের ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার মধ্যে এটি নতুন সংযোজন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নিক্ষেপ করা বস্তুটির ধরন বা অন্য কোনো বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে গত এক মাসে এটি উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি বছর উত্তর কোরিয়া একাধিকবার বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করেছিল। দেশটি হাইপারসনিক অস্ত্রব্যবস্থারও পরীক্ষা চালিয়েছে।
সর্বশেষ নিক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। ওয়াশিংটন তাদের প্রতি ‘শত্রুতাপূর্ণ নীতি’ পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত আলোচনায় বসার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান বিন্যান্সে হ্যাকিংয়ের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। তবে এ অভিযোগও অস্বীকার করেছেন কিম ইয়ো জং। পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন একটি নৌযান নির্মাণ কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে। এ সময় তিনি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (কেএআইএসটি) বোর্ড সদস্য ও ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ লি চুন-গুনের মতে, উত্তর কোরিয়ার ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থেকে ধারণা করা যায়, দেশটি অস্ত্রের ব্যাপক উৎপাদন ও মোতায়েনের প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে থাকতে পারে। রাশিয়ায় বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানির পরিকল্পনাও এর পেছনে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, কোনো অস্ত্র ব্যাপকভাবে উৎপাদন ও মোতায়েনের আগে সাধারণত একাধিক পরীক্ষা চালাতে হয়। আর বিদেশে, বিশেষ করে রাশিয়ায়, বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা থাকলেও চালানের আগে সেগুলোর কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়।
উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল, যখন ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্য এবং ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট করেছে।
তথ্য সূত্র- রয়টার্স।













