• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত কূটনীতিক নাহিদা সোবহান কে গুরুত্বপূর্ণ পদে কেন পদায়ন কার স্বার্থে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৫:৫০
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৫:৫০

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

ছবি : সংগৃহীত

নাহিদা সোবহান, বিসিএস ১৫ ব্যাচের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বিশ্বস্ত কূটনীতিকদের একজন হিসেবে দেখা হতো। তার বাবা ডা. আবদুস সোবহান ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক। অভিযোগ রয়েছে, সেই পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার প্রভাবেই নাহিদা সোবহান ও তার স্বামী নজরুল ইসলাম বারবার গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বিদেশি পোস্টিং পেয়েছেন।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল কানাডায় হাইকমিশনার হিসেবে তার নিয়োগ। অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে তিনি এই দায়িত্ব পান। সরকার পরিবর্তনের পরও সেই নিয়োগ নিয়ে কোনো দৃশ্যমান জবাবদিহি হয়নি। বরং পরে তাকে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে পদায়ন করা হয়।

নাহিদা সোবহানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বহুদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তার বাবার সঙ্গে শেখ মুজিবের ছবি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে শেখ হাসিনা কাতার সফরে গেলে, সে সময় জর্ডানে রাষ্ট্রদূত থাকা অবস্থায় প্রটোকল ভেঙে কাতারে গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জর্ডানে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কিছু এজেন্টের কাছ থেকে নিয়মিত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে।

এর আগে প্রায় নয় বছর জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন নাহিদা সোবহান ও তার স্বামী নজরুল ইসলাম। সমালোচকদের অভিযোগ, ওই সময় আন্তর্জাতিক পরিসরে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন, ক্রসফায়ার এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগগুলোকে অস্বীকার বা যুক্তিসঙ্গত হিসেবে তুলে ধরতে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মানবাধিকারবিষয়ক নানা আন্তর্জাতিক আলোচনায় সরকারের অবস্থান রক্ষায় তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ আছে, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের চাকরি পুনর্বহালের বিষয়েও নাহিদা সোবহান ও তার স্বামী মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেন। সে সময় নজরুল ইসলাম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির দপ্তরে পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকায় বিষয়টি এগিয়ে নিতে তাদের প্রভাব কাজে লাগানো হয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

প্রশ্ন হলো, এত অভিযোগ এবং এত বিতর্কের পরও কেন তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? বরং সরকার পরিবর্তনের পরও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন আবার শোনা যাচ্ছে, তাকে ফরেন সার্ভিস একাডেমির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

যদি এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি না থাকে, তাহলে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তা পরিষ্কার করুক। আর যদি অভিযোগগুলোর সত্যতা থেকে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সেবা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের জায়গা হতে পারে না। অতীতের বিতর্কিত ভূমিকার জবাবদিহি নিশ্চিত না করে একই ব্যক্তিদের আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হলে, সেটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

সূত্রঃ সুরমা নিউজ

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম