আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫টি আসনের ফল প্রকাশ করবে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরও কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যেকোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হতে হবে। বর্তমানে এই কক্ষে রিপাবলিকান দলের সদস্যসংখ্যা ২১৯, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ন্যূনতম সীমার চেয়ে মাত্র এক বেশি। এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে দুটি আসন শূন্য রয়েছে।
অন্যদিকে ১০০ আসনের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন ৫১টি আসন, আর রিপাবলিকানদের লাগবে ৫০টি আসন। কারণ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সমতার ক্ষেত্রে নিজের দলের হয়ে টাইব্রেকিং ভোট দিতে পারেন। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানরা ৫৩-৪৭ আসনে এগিয়ে রয়েছে।
গত ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের চার দিন পর সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পেরেছিল এপি, আর প্রতিনিধি পরিষদের ক্ষেত্রে লেগেছিল আট দিন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এই ব্যবধান আরও বেশি ছিল; ভোটের পরদিনই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলেও প্রতিনিধি পরিষদের ফলের জন্য আট দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সব ভোট গুনতে নিয়মিতই কয়েক দিন সময় লেগে যায়। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনের দিন বিপুল পরিমাণ ডাক ভোট পড়ে। ২০২২ সালে রাজ্যটির মোট ভোটের অর্ধেকই গণনা হয়েছিল নির্বাচনের দিন পার হওয়ার পর।
এ ছাড়া আলাস্কা ও মেইনের মতো যেসব অঙ্গরাজ্যে এবার সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হচ্ছে, সেখানে ‘র্যাংকড চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এ পদ্ধতিতে প্রথম দফার গণনায় কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর ওই প্রার্থীর ভোটগুলো ভোটারদের দ্বিতীয় পছন্দের প্রার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। এ প্রক্রিয়ার কারণে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশে বেশ বিলম্ব হতে পারে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) আগাম কোনো অনুমাননির্ভর ফল প্রকাশ করে না। কোনো প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত এবং তাঁর জয়ের আর গাণিতিক সম্ভাবনা নেই—এমনটি নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে সংস্থাটি।













