শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী’ বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার করতে নগর ভবনে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার এক দিন পর বুধবার (৭ অক্টোবর) এসব কথা বলেন মেয়র। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের ঈদগাঁহ রূপসা বেকারি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণে ক্রাশ প্রোগ্রাম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।ঘড়ি কিনুন
মেয়র বলেন, ওয়াকিল গত ১৭–১৮ বছর ধরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও তিনি ‘যোদ্ধা’ হিসেবে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ওয়াকিলের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০টি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিমের প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি বাকলিয়া থানার ওসি ছিলেন। এরপরও তিনি কীভাবে খুলশী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন, সেটি তাঁর প্রশ্ন। তাঁর দাবি, খুলশী থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোনো যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অথচ ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি খুলশীতে হৃদয় নামের এক তরুণ হত্যার মামলাকে কেন্দ্র করেও ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন মেয়র। তাঁর দাবি, ওই মামলার আসামি কামরুলকে পুলিশ মারধর করে ওয়াকিল ও তাঁর ভাইয়ের নাম বলতে বাধ্য করেছে। এ অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার ওয়াকিলের দুই ভাই তাঁর কাছে এসেছিলেন।
মেয়র বলেন, তাঁর কাছে আসা ওয়াকিলের দুই ভাই অভিযোগ করেছেন, কামরুলকে মারধর করে জোর করে ওয়াকিলের নাম বলানো হয়েছে। পরে ওয়াকিল ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। মামলার একজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রসেনও একই ধরনের কথা বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি মামলার বাদীও ওয়াকিলকে কামরুলের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেননি বলে দাবি করেন মেয়র।
ওয়াকিলকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ডা. শাহাদাত। তিনি বলেন, ওয়াকিল নিজে তাঁর কাছে আসেননি; তাঁর দুই ভাই অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। ওয়াকিল কোনো মামলার আসামি বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা পুলিশের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মেয়রের গাড়িতে করে ওয়াকিল নগর ভবন থেকে বেরিয়ে গেছেন—এমন অভিযোগেরও প্রতিবাদ করেন মেয়র। তিনি বলেন, তিনি প্রকাশ্যেই গাড়িতে উঠেছেন এবং সেখানে সিটি করপোরেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।
ডা. শাহাদাত বলেন, ‘কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে ওয়াকিল আমার গাড়িতে উঠেছেন, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’ প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের খবর প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।সংবাদ পড়ুন
মেয়রের দাবি, সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর ‘ভালো ইমেজ নষ্ট’ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব করা হচ্ছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কোনো অভিযোগ বা তথ্য প্রকাশের আগে তার প্রমাণ যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
ওসি আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আরও একটি পুরোনো অভিযোগ তুলে মেয়র বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি থাকাকালে তাঁর সঙ্গে বিরোধ হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাকলিয়ায় আয়োজিত একটি মেজবান থেকে খাবারের ডেকচি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডা. শাহাদাত বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ধরতে আমরা চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগের সময়ে দায়িত্ব পালন করা একজন পুলিশ কর্মকর্তা কেন সেই কাজ করবেন, সেটাই আমার প্রশ্ন।’
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে নগর ভবনে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও তাঁকে আটক করা যায়নি। অভিযানকে কেন্দ্র করে নগর ভবনে হট্টগোল, সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের বাক্বিতণ্ডা ও সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।
ওয়াকিলকে মেয়রের হস্তক্ষেপে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে তাঁর গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও ওঠে। তবে মেয়র তা অস্বীকার করেছেন।
ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে গত ৮ জুন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে খুলশীর ওয়্যারলেস এলাকায় ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানায়। ওই সময় তাঁর বাসার একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ দিয়ে তিনি পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি। ওই ঘটনায় খুলশী থানার ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি খুলশীতে কিশোর হৃদয় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ‘সেভেন স্টার’ নামের একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনায় ওয়াকিল ও তাঁর ভাইয়ের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে ৪ অক্টোবর ওই গ্যাংয়ের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।













